খোঁজ নেওয়ার জন্য বোন ও বোনের স্বামী-সন্তানদের ফোনে ফোন করেন পূজা চক্রবর্তী। কারোর ফোনেই কল যাচ্ছিল না।
খবর প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০৮ এএম

খোঁজ নেওয়ার জন্য বোন ও বোনের স্বামী-সন্তানদের ফোনে ফোন করেন পূজা চক্রবর্তী। কারোর ফোনেই কল যাচ্ছিল না।
গতকাল শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ সময় কান্না জড়িতকণ্ঠে পূজা চক্রবর্তী বলেন, আমার স্বামী অফিস থেকে আসার পর বললাম, দিদিদের ৪টা ফোনই বন্ধ কেন? চলো তো যাই ওদের বাসায়।
পূজা চক্রবর্তী আরো বলেন, পরে তাদের বাড়িতে এসে দেখি আমার ভাগ্নের লাশ খাটের নিচে। আমার বড় বোনকে সিঁড়িতে ফেলে রাখছে। আমার বড় বোনের ওপর ভাগ্নিকে ফেলে রাখছে।’
ঘটনার বিচার দাবি করে পূজা বলেন, ‘উনি জিলা স্কুলের একজন শিক্ষক ছিলেন। খুব ভালো মানুষ। অনেক কষ্ট করে এই বাড়িটা করছেন। খুব শান্ত মানুষ। তাদের সবাইকে এভাবে মেরে ফেলল। আমাদের জীবনের নিশ্চয়তা কী! আমরা চাই, এর সুষ্ঠু বিচার হোক।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, শহরের কামাল কাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর দোতলা বাড়ি কাজ এখনো শেষ হয়নি। সেই বাড়ির দোতলায় সম্প্রতি পরিবার নিয়ে থাকা শুরু করেছিলেন গণপতি চক্রবর্তী। বাড়ির নীচতলাটা ফাঁকাই। তারা নতুন এসেছেন বলে এখনো প্রতিবেশীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠেনি।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাতে প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী এসে ডাকাডাকি করেন। বাড়ির ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে ফটক বন্ধ দেখে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে ডাকে। ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতে সহায়তা করেন।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী বলছেন, ‘তাদের খুন করা হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। তাদের গলায় দড়ি প্যাঁচানো রয়েছে। তাদের পুরো ঘরবাড়ি তছনছ অবস্থায় রয়েছে। আমরা ধারণা করছি, এটা ডাকাতি হতে পারে।’