NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬ | ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
সড়ক-বাঁধ সুরক্ষায় বিন্না ঘাস ব্যবহারের সিদ্ধান্ত পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত ইরান চান ট্রাম্প, জানালেন কুশনার অবশেষে বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন পূজা চেরী ভারতীয় ধনকুবেরের দল ইংল্যান্ডের দ্য হানড্রেডে চ্যাম্পিয়ন আশা ভোঁসলের স্মরণে এ আর রহমানের বিশেষ উদ্যোগ, সঙ্গে শাহরুখ U.S. Business Delegation in Dhaka Signals Growing Investment Interest in Bangladesh বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা খুঁজছে মার্কিন শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন গতি, অর্থনীতি ও কৌশলগত অংশীদারত্বে ওয়াশিংটনের আগ্রহ যারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের নজরদারিতে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ শেষের পথে যুদ্ধবিরতি, ফের কি সংঘাতে জড়াবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?
Logo
logo

বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা খুঁজছে মার্কিন শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি


Shibbir Ahmed   প্রকাশিত:  ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০৮ এএম

বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা খুঁজছে মার্কিন শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি

শিব্বীর আহমেদ: বাংলাদেশে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি কোম্পানির প্রতিনিধিত্বকারী ৪৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসেছে। জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি ও আর্থিক খাতের মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর এই সফরকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

U.S.-Bangladesh Business Council (USBBC)-এর Executive Business Delegation ১১ আগস্ট ঢাকায় পৌঁছায় এবং ১৩ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন বৈঠক ও কর্মসূচিতে অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলে যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা রয়েছেন। সফরে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে Chevron, Excelerate Energy, Visa এবং Mastercard-এর প্রতিনিধিদের থাকার কথা জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট সূত্র।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত Brent T. Christensen ঢাকায় প্রতিনিধিদলটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি ও অর্থ খাতের শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কোম্পানিগুলো নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা খুঁজে দেখতে বাংলাদেশে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্ব

প্রতিনিধিদলের সফরের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের সম্ভাবনা যাচাই করা। বিশেষ করে জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও আর্থিক খাতকে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের বৈঠকেও দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বৈঠকে শিল্প ও অবকাঠামো খাতের পাশাপাশি জ্বালানি, প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবায় মার্কিন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

USBBC প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত Atul Keshap বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

পাঁচ বছরে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য

মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরের মধ্যেই বাংলাদেশে নতুন মার্কিন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আরও বড় একটি ঘোষণা এসেছে।

American Chamber of Commerce in Bangladesh (AmCham) জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে তাদের বর্তমান সদস্য প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সম্ভাব্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সহায়তা ও তা mobilise করার লক্ষ্য রয়েছে।

১১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে AmCham-এর নির্বাহী কমিটি এই বিনিয়োগ লক্ষ্যের কথা জানায়। একই বৈঠকে বিনিয়োগ সহজীকরণ, কর, ভ্যাট ও শুল্কব্যবস্থার সংস্কার এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

AmCham-এর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। ফলে নতুন ৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে মার্কিন করপোরেট উপস্থিতি আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

জ্বালানি ও প্রযুক্তিতে বিশেষ আগ্রহ

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক উপস্থিতি রয়েছে। নতুন প্রতিনিধিদলের সফরে এই খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। Chevron ও Excelerate Energy-এর মতো মার্কিন কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব সফরটির জ্বালানি খাতকেন্দ্রিক গুরুত্বও তুলে ধরছে। একই সঙ্গে Visa ও Mastercard-এর মতো বৈশ্বিক আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও আর্থিক সেবার বাজার নিয়েও মার্কিন ব্যবসায়ীদের আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাংলাদেশের দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল অর্থনীতি, জ্বালানি চাহিদা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বৃহৎ ভোক্তা বাজার মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বাণিজ্য চুক্তির পর নতুন বাস্তবতা

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্কের এই নতুন তৎপরতা এসেছে দুই দেশের Reciprocal Trade Agreement স্বাক্ষরের কয়েক মাস পর। ফলে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরকে শুধু একটি সাধারণ বাণিজ্যিক সফর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দুই দেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক সমঝোতাকে বাস্তব বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য মার্কিন বিনিয়োগ শুধু নতুন মূলধন আনার বিষয় নয়; এর সঙ্গে প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশ হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার একটি বড় ও দ্রুত পরিবর্তনশীল বাজার, যেখানে উৎপাদন, জ্বালানি, ডিজিটাল সেবা, আর্থিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসার সুযোগ রয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়?

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাঁচ দশকের বেশি সময়ের সম্পর্ক ঐতিহ্যগতভাবে বাণিজ্য ও তৈরি পোশাক রপ্তানিকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সম্পর্কের অর্থনৈতিক পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গরের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের পরপরই মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর এবং AmCham-এর অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য—তিনটি ঘটনাই একই সময়ে ঘটেছে। ফলে দুই দেশের সরকারি কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততাও এখন নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে বিনিয়োগের আগ্রহ বাস্তব প্রকল্পে রূপান্তর করতে হলে বাংলাদেশকে ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশের ধারাবাহিক সংস্কার, নীতিগত স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা এবং দ্রুত প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে। সাম্প্রতিক মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর এবং নতুন বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা তাই বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের পাশাপাশি একটি বড় পরীক্ষাও। মার্কিন কোম্পানিগুলোর আগ্রহকে কতটা বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দেওয়া যায়, সেটিই আগামী দিনে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠতে পারে।