NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২৬ | ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
জনগণ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে : প্রধানমন্ত্রী খাবারের ভ্যানে বিমান বদলেছিলেন ট্রাম্প! লোহিত সাগরে জাহাজে হুতির হামলায় নিহত ৩ হাইড্রেশন ব্রেক রেখে দিতে চায় ফিফা জ্যাকসন হাইটসে বঙ্গবন্ধুর ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হবে ১৫ আগস্ট বেলুচিস্তানের স্বঘোষিত স্বাধীনতা দিবস আজ: বিশ্বজুড়ে বেলুচদের নানা কর্মসূচি শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশসহ অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব আরো জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়ের শর্তে হরমুজ খোলার ঘোষণা ইরানের বিপুল ক্ষতির মুখে ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’
Logo
logo

উত্তর আমেরিকা'র আয়োজনে হয়ে গেল এক অভিনব ও চমকপ্রদ আড্ডা


খবর   প্রকাশিত:  ০৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৮ এএম

উত্তর আমেরিকা'র আয়োজনে হয়ে গেল এক অভিনব ও চমকপ্রদ আড্ডা

গত ৩০ জুলাই,  'প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা'র আয়োজনে হয়ে গেল এক অভিনব ও চমকপ্রদ আড্ডা। আড্ডার নাম— 'কাঁঠালিয়া আড্ডা'। শিশুকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত অনেক কাঁঠাল খেয়েছি, কিন্তু কাঁঠাল নিয়েও আড্ডা হয়— তা এই প্রথম শুনলাম!  সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী আগেই বলেছিলেন, সবাই যেন কাঁঠাল রঙের শাড়ি এবং পাঞ্জাবি পরে আসে। সে মোতাবেক সবাই হলুদ শাড়ি আর পাঞ্জাবি, কেউবা আবার লাল-সবুজ মিলিয়ে পরে এসেছেন। 

 

আমিও কাজ থেকে তিন ঘণ্টা আগেই ছুটি নিয়ে অনুষ্ঠানে পৌঁছে গেলাম হলুদ শাড়ি পরে। গিয়ে দেখি, ইলহাম একাডেমি রঙিন হয়ে উঠেছে কাঁঠালপ্রেমীদের কাঁঠালিয়া রঙে। চারপাশের এত হলুদ রঙের বাহার দেখে মনে হলো— হলুদে হলুদে এ যেন আমার ফেলে আসা সেই শর্ষে ক্ষেতের স্মৃতি!  এ যেন শীতের শেষ আর বসন্তের আগে গ্রামবাংলা সেজেছে অপরূপ সাজে। যদিও আমাদের এই কৃত্রিম হলুদ সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির আনাগোনা ছিল না, তবু মনে পড়ে গেল কবি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের কবিতা, 

'মৌমাছি মৌমাছি

কোথা যাও নাচি নাচি

দাঁড়াও না একবার ভাই,

ওই ফুল ফোটে বনে, 

যাই মধু আহরণে,

দাঁড়াবার সময় তো নাই...।'

 

সত্যিই তো, প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে আমাদের কারোই তো একটু দাঁড়াবার সময় নেই! তবু সব কাজ সামলে এই হলুদ উৎসবে মধু আহরণ করতেই যেন আমরা সবাই ছুটে এসেছি।

কাঁঠাল নিয়ে চমৎকার সব আলোচনা হলো, গল্প হলো, হাসাহাসি হলো। আমরা সবাই প্রাণভরে উপভোগ করলাম মজার সব কাঁঠালি গল্প। 

 

পশ্চিমবঙ্গের কবি সুবোধ সরকার এসেছিলেন আমাদের এই কাঁঠালিয়া আড্ডায়। উনি আবেগে আপ্লুত হয়ে বললেন, "অনেক আড্ডায় গিয়েছি, অনেক আড্ডার নাম শুনেছি, কিন্তু এই প্রথম শুনলাম কাঁঠালিয়া আড্ডার কথা!"

 

মজার সব আলোচনার শেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। সবাই থালা হাতে দাঁড়িয়ে গেলেন কাঁঠাল খাওয়ার জন্য। বোন রাশিদা সবার প্লেটে তুলে দিলেন কাঁঠাল আর বিন্নি চালের ভাত; সাথে কাঁঠালের এঁচোড়, কাঁঠালের পায়েস আর দই!

 

অনুষ্ঠান শেষে বেরিয়ে আসছি আমি আর বন্ধু স্নোফ্লেক্স। রাস্তার কোণায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি আমাদের গাড়ির জন্য। হঠাৎ এক মহিলা হন্তদন্ত হয়ে রাস্তা পার হয়ে আমাদের কাছে আসলেন।

উত্তেজিত হয়ে বললেন, "অনুষ্ঠান কি শেষ হয়ে গেছে?" আমরা বললাম, "হ্যাঁ!" মহিলা খুবই হতাশ হয়ে বললেন, "পত্রিকায় দেখে আসছিলাম কাঁঠাল খাওয়ার জন্য!" 

আমাদেরও খারাপ লাগলো। বললাম, "পরের বার যখন হবে, তখন আবার আসবেন।"

 

ধন্যবাদ ইব্রাহিম চৌধুরী ভাইজানকে, এমন চমৎকার একটা আয়োজন করার জন্য!