মাত্র ২৯ দিনে আল্পস পর্বতমালার ২ হাজার কিলোমিটার দুর্গম পথে দৌড়ে আটটি দেশ অতিক্রম করে নতুন ইতিহাস গড়লেন নিউজিল্যান্ডের আল্ট্রা-রানার সোফি উডস।
বিশ্বের অন্যতম কঠিন সহনশীলতার চ্যালেঞ্জ ভিয়া আল্পিনা সবচেয়ে কম সময়ে শেষ করার নতুন রেকর্ড এখন সোফির দখলে।
খবর প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০৮ এএম

মাত্র ২৯ দিনে আল্পস পর্বতমালার ২ হাজার কিলোমিটার দুর্গম পথে দৌড়ে আটটি দেশ অতিক্রম করে নতুন ইতিহাস গড়লেন নিউজিল্যান্ডের আল্ট্রা-রানার সোফি উডস।
বিশ্বের অন্যতম কঠিন সহনশীলতার চ্যালেঞ্জ ভিয়া আল্পিনা সবচেয়ে কম সময়ে শেষ করার নতুন রেকর্ড এখন সোফির দখলে।
৪২ বছর বয়সী সোফি গত ৪ জুলাই ইতালি থেকে যাত্রা শুরু করেন। এরপর স্লোভেনিয়া, অস্ট্রিয়া, জার্মানি, লিখটেনস্টাইন, সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্স পেরিয়ে গত ১ আগস্ট রাতে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের দেশ মোনাকোয় পৌঁছে তার অভিযান শেষ করেন।
২ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথজুড়ে সোফিকে এমন উচ্চতায় উঠতে হয়েছে, যা প্রায় ১২ বার মাউন্ট এভারেস্টে আরোহণের সমান।
এর আগে ২০২৪ সালে ব্রিটিশ দৌড়বিদ জেক ক্যাটেরাল ৩৫ দিনে এই রুট শেষ করে দ্রুততম সময়ের রেকর্ড গড়েছিলেন।
রেকর্ড গড়ার পর বিবিসি স্পোর্টকে সোফি বলেন, ‘আমি ভীষণ আনন্দিত। কিন্তু একই সঙ্গে খুব ক্লান্ত। শেষ কয়েক দিনে প্রতিদিন মাত্র দেড় থেকে আড়াই ঘণ্টা ঘুমিয়েছি।
বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন রুটগুলোর একটি
ভিয়া আল্পিনা এতটাই দুর্গম যে, আনুষ্ঠানিক সময় গণনার মাধ্যমে খুব অল্পসংখ্যক দৌড়বিদই এটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছেন।
এই চ্যালেঞ্জের কঠিন মুহূর্তগুলোর কথা স্মরণ করে সোফি উডস বলেন, ‘কয়েকবার মনে হয়েছে, আমি আদৌ শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারব কি না, জানি না।’
এই নারী দৌড়বিদ আরো বলেন, ‘কখনোই থামতে চাইনি। এই কাজের বিশালত্ব অনেক সময় আমাকে অভিভূত করেছে। আমি হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগতির দৌড়বিদ নই, তবে পর্বতে দীর্ঘ সময় ধরে এগিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আমার আছে। শরীরের সব জায়গায় ব্যথা থাকলেও কীভাবে চলতে হয়, সেটা আমি জানি।’
ম্যাকডোনাল্ডস, পাস্তা আর এনার্জি জেল ছিল ভরসা
প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত দৌড়াতে হয়েছে সোফি উডসকে। সেই কঠিন যাত্রায় তার প্রধান খাদ্য ছিল ম্যাকডোনাল্ডসের খাবার, পাস্তা এবং এনার্জি জেল। পুরো পথে সোফিকে সহায়তা করেছেন তার স্বামী জর্জ, বন্ধু জো এবং তাদের কুকুর নিলা।
দৌড় শুরুর পরে অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সোফি উডস বলেন, ‘প্রথম সপ্তাহটা ছিল ভয়াবহ। শরীরের সবকিছু ফুলে গিয়েছিল। সব জায়গায় ব্যথা ছিল। মনে হচ্ছিল অনেক পেশিতে টান লাগবে। দ্বিতীয় সপ্তাহও খুব একটা ভালো যায়নি। তবে তৃতীয় সপ্তাহে এসে মনে হলো আমি আরো ফিট হয়ে গেছি।’
তাপপ্রবাহ, দাবানল আর ঝড়ের সঙ্গে লড়াই
এই অভিযানে সোফি উডস ও তার দলকে মোকাবিলা করতে হয়েছে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ, ঘোড়ামাছির ঝাঁক, দাবানল ও ঝড়ের। দাবানলের কারণে নির্ধারিত পথ পরিবর্তন করতে হয়েছে। এতে অতিরিক্ত ৫ কিলোমিটার পথ এবং আরো ২০০ মিটার বিপজ্জনক আরোহণ যোগ হয়।
ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহ ও দাবানল পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সোফি উডস বলেন, ‘এর আগেও আমি দাবানলের কাছাকাছি ছিলাম। এটা সত্যিই ভয়ংকর। আমি নিজে, আমার দল কিংবা অন্য কাউকে ঝুঁকিতে ফেলতে চাইনি। তাই আগুনের খুব কাছ দিয়ে যাওয়ার প্রশ্নই ছিল না।’
এখন কী করবেন?
টানা ২৯ দিন প্রায় ১৮ ঘণ্টা দৌড়ানোর পর বিশ্রামই সোফি উডসের একমাত্র পরিকল্পনা। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘এখন আমি অনেকটা সময় সোফায় বসে নেটফ্লিক্স দেখব এবং কিছু সবজি খাব।’