ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে পৌঁছেছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
খবর প্রকাশিত: ০৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৭ এএম

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে পৌঁছেছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, হামলায় এখন পর্যন্ত ১০ জন নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে। সোমবার ভোরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কিয়েভে আঘাত হানে। হামলায় বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকটি আবাসিক ভবনের অংশ ধসে পড়ে।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে কাজ করছেন। শহরের ঐতিহাসিক পোদিলস্কি জেলায় একটি বহুতল আবাসিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখান থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তকাচেঙ্কোর মতে, শুধু পোদিলস্কি জেলাতেই চারটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, শহরের পূর্বাঞ্চলীয় দারনিৎসকি জেলায় দুজন নিহত হয়েছেন। সেখানে একটি ২৫ তলা আবাসিক ভবনে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ আঘাত হানে। ভবনের ওপরের তলাগুলোতে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। তিনি আরো জানান, দারনিৎসকির একটি ৩০ তলা ভবনে আগুন লেগেছে।
গত বৃহস্পতিবারও এই এলাকায় রাশিয়ার বড় ধরনের হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছিলেন। সেদিন রাশিয়া শত শত ড্রোন ও কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যাতে অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটে। রয়টার্সের সাংবাদিকরা কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। একই সময়ে রুশ ড্রোন প্রতিহত করতে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল।
প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন এবং আহতদের স্ট্রেচারে করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেলে প্রকাশিত ছবিতে কয়েকটি বহুতল আবাসিক ভবন ও একটি বাণিজ্যিক ভবনে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। অনেক ভবনের ভেতরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যায়। বায়ুর মান খারাপ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় ব্লগাররা বাসিন্দাদের জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন। অনেক মানুষ আশ্রয়ের জন্য মেট্রো স্টেশন ও ভূগর্ভস্থ পার্কিং এলাকায় জড়ো হন।
এদিকে ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িকভাবে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। হামলার আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও সম্ভাব্য রুশ হামলার বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক করেছিলেন।