পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা আদর্শিক কোনো কারণেই সন্ত্রাসবাদকে বৈধতা দেওয়া যায় না। সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
খবর প্রকাশিত: ০২ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৭ এএম

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা আদর্শিক কোনো কারণেই সন্ত্রাসবাদকে বৈধতা দেওয়া যায় না। সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
বুধবার (১ জুলাই) ঢাকায় হলি আর্টিজান হামলার ১০ম বার্ষিকী উপলক্ষে ইতালি দূতাবাস আয়োজিত এক স্মরণানুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণ ও তাদের স্মৃতি স্মারকে ফুল দিয়ে সম্মান জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। তারা নিহতদের স্মরণে পুস্পস্তবক ও এক মিনীট নিরবতা পালন করেন।
অনুষ্ঠানে নিহতদের সম্মানে পুস্পস্তবক দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
তিনি বলেন, সেদিন সন্ত্রাসীরা আশা, মানবতা ও সহাবস্থানের মূল্যবোধকে আঘাত করতে চেয়েছিল। বাংলাদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি ইতালি, জাপান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরীহ নাগরিকদের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, হলি আর্টিজান হামলা ছিল বাংলাদেশের সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থার ওপর একটি পরিকল্পিত আঘাত। কিন্তু বাংলাদেশ ঐক্য ও দৃঢ়তার মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। গত এক দশকে সরকার, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নারী-যুবসমাজ, বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ত করে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সন্ত্রাসবাদ দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকায় ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, ১০ বছর আগে সংঘটিত সেই হামলায় অনেক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। নিহত ইতালীয়রা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। আর জাপানি নাগরিকরা জাইকার উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছিলেন, যার অবদান আজও বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে দৃশ্যমান। নিহতরা বিভিন্ন দেশের হলেও অধিকাংশই ছিলেন তরুণ, মেধাবী ও সম্ভাবনাময় মানুষ। তাদের স্মরণ করা মানে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্নকে স্মরণ করা।
ইতালির রাষ্ট্রদূত অনুষ্ঠানে দেশটির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলার বার্তা পাঠ করে শোনান। বার্তায় রাষ্ট্রপতি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, কিন্তু তার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক সংহতি আরো শক্তিশালী হয়েছে।
তিনি সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং নিরাপদ, উন্মুক্ত ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, হলি আর্টিজানের দশম বার্ষিকীতে সবার অঙ্গীকার হওয়া উচিত—‘নেভার অ্যাগেইন’ বা এমন ঘটনা আর কখনো ঘটতে দেওয়া যাবে না।
অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনইচি সাইদা, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত উপপ্রধান অ্যালবার্ট সিয়া, বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নিহতদের পরিবারের সদস্য, হামলা থেকে বেঁচে ফেরা কয়েকজন জিম্মি এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। দেশের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস এ হামলায় ৯ ইতালীয়, ৭ জাপানি, এক ভারতীয়, এক বাংলাদেশি-আমেরিকান দ্বৈত নাগরিক ও দুজন বাংলাদেশিসহ মোট ২০ জনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় হামলাকারীদের ছোড়া গ্রেনেডের আঘাতে প্রাণ হারান তৎকালীন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন আহমেদ এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার রবিউল ইসলাম।