NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, রবিবার, আগস্ট ২, ২০২৬ | ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী অভিবাসী সংকটে স্পেনের সঙ্গে ‘শেনজেন চুক্তি’ স্থগিত করল ইতালি ইরানের ওপর হামলা আপাতত স্থগিত : ট্রাম্প বিশ্বকাপের কষ্ট ভুলে মাঠে ফিরলেন মেসি, কাসেমিরোর আত্মঘাতী গোল ‘এন্ডগেম’কে পেছনে ফেলে প্রিভিউ আয়ে শীর্ষে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ থ্যালাসেমিয়া শনাক্তে গ্রাম পর্যন্ত স্ক্রিনিং চালুর আহ্বান জুবাইদা রহমানের আজ থেকে সব গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক স্পেনের অভিবাসন সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা গাজার প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তিকে স্বাগত জানাল ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্র্যামি থেকে সরে দাঁড়ানো নিয়ে বিতর্ক, কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল বিটিএস?
Logo
logo

স্টারমারের পদত্যাগ নিয়ে লেবার পার্টিতে বিভক্তি


খবর   প্রকাশিত:  ১২ মে, ২০২৬, ১০:০৫ এএম

স্টারমারের পদত্যাগ নিয়ে লেবার পার্টিতে বিভক্তি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও লেবার নেতা কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের সময়সূচি নির্ধারণ নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তীব্র বিভক্তি ও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী স্টারমারের কাছে পদত্যাগের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে মন্ত্রিসভার ভেতরে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে বলে জানা গেছে। স্টারমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সরকারের ছয়জন মন্ত্রী সহকারী (পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি বা পিপিএস) পদত্যাগ করেছেন।

 


 

মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত অন্তত ৭২ জন লেবার এমপি স্টারমারের পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন–স্বাস্থ্যসচিব ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পিপিএস জো মরিস। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়েছেন’।

এ ছাড়া উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির পিপিএস মেলানি ওয়ার্ড, ক্যাবিনেট অফিসমন্ত্রী ড্যারেন জোন্সের পিপিএস নওশাবাহ খান এবং পরিবেশ সচিব এমা রেনল্ডসের পিপিএস টম রাটল্যান্ডও পদত্যাগ করেছেন।

 

অন্যদিকে আরো দুজন মন্ত্রী সহকারী—গর্ডন ম্যাকি ও স্যালি জেমসন—স্টারমারের পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।


 

এদিকে এক বক্তব্যে স্টারমার জানান, তিনি পদত্যাগ করবেন না এবং ‘সন্দেহকারীদের ভুল প্রমাণ করবেন’। সরকার ভুল করেছে স্বীকার করলেও তিনি দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল।

 

তবে সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের ভরাডুবির পর তার ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ইংল্যান্ডে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কাউন্সিলর হারিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে রিফর্ম ইউকে ও গ্রিন পার্টির উত্থানে লেবারের সমর্থন কমেছে।


 

ওয়েলসে শত বছরের রাজনৈতিক আধিপত্য হারানোর পাশাপাশি স্কটিশ পার্লামেন্টেও ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে দলটি।

জো মরিস এক বিবৃতিতে বলেন, লেবার কাউন্সিলর ও প্রার্থীদের এমন সিদ্ধান্তের দায় নিতে হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

 

অন্যদিকে টম রাটল্যান্ড বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু পার্লামেন্টারি লেবার পার্টির মধ্যেই নয়, পুরো দেশজুড়ে কর্তৃত্ব হারিয়েছেন।

নওশাবাহ খানও বলেন, আমি রাজনীতিতে এসেছি পরিবর্তনের জন্য, ব্যর্থতা দেখেও চুপ থাকার জন্য নয়। এখনই নেতৃত্বে পরিবর্তন দরকার।

এদিকে ডনকাস্টার সেন্ট্রালের এমপি স্যালি জেমসন প্রস্তাব দিয়েছেন, স্টারমার যেন সেপ্টেম্বর অথবা তার কিছু পরেই সরে যাওয়ার একটি পরিষ্কার সময়সূচি ঘোষণা করেন। লেবার পার্টির ভেতরে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় উঠেছে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের নাম। যদিও নেতৃত্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে তাকে আবার সংসদ সদস্য (এমপি) হতে হবে।


 

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে স্টারমার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং ব্রিটিশ স্টিল জাতীয়করণের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে দেশকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে ফেলতে চাই না, যেমনটি কনজারভেটিভরা বারবার করেছে।’ তবে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ চাপ এবং নেতৃত্ব সংকট স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।