NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ | ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নেপালের বন্যা জলবায়ু নিয়ে বিশ্বকে আরও সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিচ্ছে: জিসিএফ প্রধান বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ চাকরি ঝুঁকিতে: বিশ্বব্যাংক আমাদের সামনে এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী মক্কা প্যাক্টে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি মানবে সরকার ইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিনদের সতর্কবার্তা নিউইয়র্কে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় নারী ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত শাটডাউন ঠেকাতে বড় সিদ্ধান্ত, ৩৭০–৪৮ ভোটে বাজেট বিল পাস মার্কিন হাউসে ‘১৯৪৫-এর বিশ্বব্যবস্থা দিয়ে ২০২৬ চলবে না’: জাতিসংঘ সংস্কারের ডাক গুতেরেসের সাত মাসে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১৭ জিডি শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা
Logo
logo

গাজা সিটিতে একের পর এক ভবন গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েল, শিশু হত্যায় নতুন মাত্রা


খবর   প্রকাশিত:  ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:০৯ এএম

গাজা সিটিতে একের পর এক ভবন গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েল, শিশু হত্যায় নতুন মাত্রা

গাজা সিটিতে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের জোর করে সরিয়ে দেওয়ার পর ইসরায়েলি সেনারা আবারও একাধিক বহুতল ভবনে হামলা চালিয়েছে। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত একটি মানচিত্রে কয়েকটি উঁচু ভবনকে লক্ষ্যবস্তু ঘোষণা করার পরপরই তাল আল-হাওয়া এলাকায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-এর কার্যালয়ের বিপরীতে থাকা ১৫ তলা সাউসি টাওয়ারে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, বাসিন্দাদের মাত্র আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টার মধ্যে ঘর ছাড়তে বলা হচ্ছে, যা পালিয়ে যাওয়ার জন্য মোটেও যথেষ্ট সময় নয়। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

 

ইসরায়েলি সেনারা দাবি করেছে, এসব ভবন হামাস গোয়েন্দা তৎপরতার জন্য ব্যবহার করছিল এবং এলাকাজুড়ে বিস্ফোরক ও সুড়ঙ্গ বানানো হয়েছিল।

 

তবে গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় এসব অভিযোগকে ‘ভুয়া প্রচারণা’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এগুলো আসলে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস ও মানুষকে জোর করে বাস্তুচ্যুত করার কৌশল। তাদের হিসাবে, গাজার ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েল।

এর আগে, গত শুক্রবার ১২ তলা মুশতাহা টাওয়ার ধ্বংস করে ইসরায়েলি বাহিনী। আন্তর্জাতিক সমালোচনা উপেক্ষা করেই গাজা সিটি দখলের লক্ষ্যে একের পর এক বিমান হামলা চালানো হচ্ছে।

শিশু হত্যার ভয়াবহ চিত্র

গাজা সিটি থেকে আতঙ্কগ্রস্ত মানুষরা পালানোর চেষ্টা করলেও সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে শিশুরা। ইউনিসেফের মুখপাত্র টেস ইংগ্রাম বলেছেন, গাজার মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই শিশু এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবনে এই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ‘ভয়াবহ হুমকি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

তিনি বলেন, গাজার প্রতি দুইজনের একজন শিশু, আর তাদের জন্য জীবন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

শিশু অধিকার সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, গাজায় প্রায় ২৩ মাসের যুদ্ধে গড়ে প্রতি ঘণ্টায় অন্তত একজন শিশুকে হত্যা করছে ইসরায়েল। একে ‘ভয়াবহ নতুন মাত্রা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে সংস্থাটি।

গাজার সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজার শিশু নিহত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুধু শনিবার সকাল থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৬৭ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪৫ জনই গাজা সিটির বাসিন্দা। এছাড়া ইসরায়েলি অবরোধের কারণে তৈরি দুর্ভিক্ষে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জন মারা গেছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অনাহারে মারা গেছে ৩৮২ ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে ১৩৫ জন শিশু।

 

 

 

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে অন্তত ৬৪ হাজার ৩৬৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৬২ হাজার ৩৬৭ জন আহত হয়েছেন।