NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬ | ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ইসিতে জমা পড়েছে তিন মনোনয়নিপত্র বিএনপির মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ মির্জা ফখরুলের, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা দিবস পালন: বিশ্বমঞ্চে সার্বভৌমত্বের জোরালো স্বীকৃতি দাবি বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্বারোপ হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ছেন ক্যারোলিন লেভিট তুরস্কে ট্রাম্পের অবস্থান জানত ইরান, ছিল বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা প্রথম সেশনেই ৪ উইকেট শিকার বাংলাদেশের, চাপে অস্ট্রেলিয়া ডন-সামিরার সেই ‘অন্তরঙ্গ’ ছবির নেপথ্যে কী?
Logo
logo

শেখ মুজিবুর রহমান জাতির জনক নন, স্বাধীনতা অর্জনে তার ভূমিকা ও আত্মত্যাগকে স্বীকার করি: নাহিদ


খবর   প্রকাশিত:  ১৫ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম

শেখ মুজিবুর রহমান জাতির জনক নন, স্বাধীনতা অর্জনে তার ভূমিকা ও আত্মত্যাগকে স্বীকার করি: নাহিদ

শেখ মুজিবুর রহমান জাতির জনক নন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘জাতির পিতা’ উপাধি কোনো ইতিহাস নয়, বরং এটি আওয়ামী লীগের তৈরি একটি ফ্যাসিবাদী হাতিয়ার।

‘বাংলাদেশের মালিক এ দেশের জনগণ’ শিরোনামে দেওয়া ওই পোস্টে নাহিদ লেখেন, শেখ মুজিবুর রহমান জাতির জনক নন। আমরা স্বাধীনতা অর্জনে তার ভূমিকা ও আত্মত্যাগকে স্বীকার করি, কিন্তু একইসঙ্গে আমরা তার শাসনামলে ঘটা জাতীয় ট্র্যাজেডিকেও স্মরণ করি। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ভারতের একটি উপনিবেশ রাজ্যে পরিণত হয়েছিল, ১৯৭২ সালের গণবিরোধী সংবিধান চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং লুটপাট, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও একদলীয় বাকশাল স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল।

 

তিনি লেখেন, আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী রাজনীতির মূলে রয়েছে মুজিব পূজা ও মুক্তিযুদ্ধ পূজা। যা ছিল জনগণের ওপর নিপীড়ন, দেশ লুণ্ঠন এবং নাগরিকদের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে বিভক্ত করার জন্য ব্যবহৃত একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার। এটি ছিল গণতন্ত্রের ছদ্মবেশে আধুনিক জমিদারিত্ব ছাড়া আর কিছুই নয়। অথচ মুক্তিযুদ্ধ ছিল সব মানুষের সংগ্রাম।

 

dhakapost

এনসিপির আহ্বায়ক লেখেন, কয়েক দশক ধরে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে এসেছে। তারা জবাবদিহিতা ছাড়াই শাসন করেছে। প্রতিটি দুর্নীতি ও দমনমূলক কাজকে ন্যায্যতা দিতে মুজিবের নাম ব্যবহার করেছে।

নাহিদ লেখেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এই জমিদার তন্ত্র ভেঙে দিয়েছে। কোনো ব্যক্তি, কোনো পরিবার, কোনো আদর্শকে আর কখনোই নাগরিকদের অধিকার হরণ করতে বা বাংলাদেশের ওপর ফ্যাসিবাদ চাপিয়ে দিতে দেওয়া হবে না। ‘জাতির জনক’ উপাধি কোনো ইতিহাস নয়, বরং এটি আওয়ামী লীগের ভিন্নমত দমন ও রাষ্ট্রে একচেটিয়া অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি ফ্যাসিবাদী হাতিয়ার। বাংলাদেশ সমানভাবে সব নাগরিকের এবং এর জন্ম বা ভবিষ্যতের মালিকানা কোনো একক ব্যক্তি দাবি করতে পারেন না।

তিনি লেখেন, মুজিববাদ– শেখ মুজিব ও মুক্তিযুদ্ধের নামের একটি ফ্যাসিবাদী আদর্শ। আমাদের সংগ্রাম কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি ফ্যাসিবাদী মতবাদের বিরুদ্ধে।

এনসিপির আহ্বায়ক লেখেন, মুজিববাদ হলো ফ্যাসিবাদ ও বিভাজনের মতবাদ। এর অর্থ– জোরপূর্বক গুম, খুন, ধর্ষণ এবং পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন। এর অর্থ– দেশের সম্পদ লুট করা ও তা বিদেশে পাচার করা। এর অর্থ– ইসলামভীতি, সাম্প্রদায়িকতা ও সংখ্যালঘুদের ভূমি দখল। এর অর্থ– বিদেশি শক্তির কাছে জাতীয় সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে দেওয়া। ১৬ বছর ধরে মুজিবকে রাজনৈতিকভাবে একটি অস্ত্র হিসেবে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল, যেখানে তার মূর্তির আড়ালে অপহরণ, হত্যা, লুণ্ঠন ও গণহত্যার বিস্তৃতি ঘটেছিল।

নাহিদ লেখেন, মুজিববাদ একটি জীবন্ত বিপদ। একে পরাজিত করতে রাজনৈতিক, আদর্শিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ প্রয়োজন। আমাদের সংগ্রাম একটি প্রজাতন্ত্র, একটি সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য, যেখানে কোনো দল, কোনো রাজবংশ এবং কোনো নেতা জনগণের ঊর্ধ্বে  থাকবে না। বাংলাদেশ কারো সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের প্রজাতন্ত্র।