অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার একটি জাদুঘর থেকে ৬০০টির বেশি হীরা খচিত একটি মূল্যবান নেকলেস চুরি হয়েছে। নেকলেসটি চুরির ঘটনায় জড়িত দুই সন্দেহভাজনকে ধরতে আন্তর্জাতিকভাবে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) বিকেলে দুই সন্দেহভাজন ভিয়েনা মিউজিয়াম অব অ্যাপ্লাইড আর্টসের একটি কাচের প্রদর্শনী কেস ভেঙে নেকলেসটি নিয়ে যায়। প্ল্যাটিনাম ও হীরা দিয়ে তৈরি নেকলেসটির মূল্য ৪০ লাখ ডলারের বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চুরি হওয়া নেকলেসটি মিশরের সাবেক রাজপরিবারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ১৯৩৯ সালে মিশরের রাজপরিবারের সদস্য ফাওজিয়ার সঙ্গে ইরানের তৎকালীন যুবরাজ ও পরবর্তী সময়ে শাহ হওয়া মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর বিয়েতে নেকলেসটি পরেছিলেন রানী নাজলি।
গহনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভ্যান ক্লিফ অ্যান্ড আর্পেলস নেকলেসটিকে ‘সাদা গহনার এক অনন্য নিদর্শন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এতে ব্যবহৃত হীরাগুলোর মোট ওজন ২০০ ক্যারেটের বেশি। প্রায় এক দশক আগে নিলামে তোলার সময় নেকলেসটির আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছিল ৩৬ লাখ থেকে ৪৬ লাখ ডলার।
নেকলেসটি বিখ্যাত গহনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভ্যান ক্লিফ অ্যান্ড আর্পেলসের ওপর আয়োজিত একটি প্রদর্শনীর অংশ ছিল।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত ও নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করছেন। এদিকে, চুরির ঘটনার পর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা প্রদর্শনীটি আবার দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। ভিয়েনা পুলিশ নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা মুখোশবিহীন দুই সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনদের একজনের কাছে আসল আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেকলেসটি চুরির পর তারা জাদুঘরের দক্ষিণে ভিয়েনা স্ট্যাডপার্কের দিকে পালিয়ে যায়। ইউরোপের বিভিন্ন জাদুঘর থেকে মূল্যবান প্রত্নবস্তু ও শিল্পকর্ম চুরির সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা।
ভিয়েনা মিউজিয়াম অব অ্যাপ্লাইড আর্টসের মহাপরিচালক লিলি হোলিন বলেছেন, মূল্যবান একটি গহনা চুরির ঘটনায় তারা গভীরভাবে মর্মাহত।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘প্রদর্শনীর জন্য গহনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভ্যান ক্লিফ অ্যান্ড আর্পেলসের সঙ্গে যৌথভাবে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা হয়েছিল। প্রদর্শনীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং সব ব্যবস্থা সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুত করা হয়েছিল।’
হোলিন বলেন, ‘চুরির সময় ঘটনাটি ছিল ‘সশস্ত্র’। তবে জাদুঘরের কর্মীরা শান্ত থেকে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।’ তিনি আরো জানান, প্রদর্শনী শুরুর আগে জাদুঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন বড় জাদুঘরে ঘটে যাওয়া চুরির ঘটনাগুলোও পর্যালোচনায় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে বৃহস্পতিবার স্পেনের একটি জাদুঘর থেকেও প্রাগৈতিহাসিক যুগের গুরুত্বপূর্ণ গহনা ও প্রত্নবস্তু চুরি হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে সিসিলির একটি জাদুঘর থেকে রেনেসাঁ যুগের চারটি চিত্রকর্ম চুরি হয়। এর আগে বছরের শুরুতে ইতালির পার্মার একটি জাদুঘর থেকে রেনোয়া, সেজান ও মাতিসের আঁকা তিনটি মূল্যবান চিত্রকর্ম চুরি করা হয়।
জাদুঘরগুলোতে ধারাবাহিক এসব চুরির ঘটনা ঘটছে গত বছরের অক্টোবরে প্যারিসের লুভর জাদুঘরে দিনের বেলায় চালানো এক দুঃসাহসিক ডাকাতির পর। ওই ঘটনায় মুখোশধারী একটি দল মূল্যবান রত্ন চুরি করে নিয়ে যায়। ইউরোপের বিভিন্ন জাদুঘরে একের পর এক চুরির ঘটনায় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সংস্থা ইউরোপোল জানিয়েছে, জাদুঘরে চুরির ঘটনা দিন দিন আরো আগ্রাসী হয়ে উঠছে। এসব ঘটনায় সহিংসতা ও জোরপূর্বক প্রবেশের প্রবণতাও বাড়ছে। ইউরোপোলের মতে, এর সঙ্গে নতুন ধরনের অপরাধী চক্রের জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।


