ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি ও ইতালিসহ পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের দেশগুলোতে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ‘রেড হিট অ্যালার্ট’ বা সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সাহারা মরুভূমি থেকে ধেয়ে আসা উষ্ণ বায়ুর কারণে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে এবং অনেক জায়গায় এটি ৪০ থেকে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দীর্ঘতম ও তীব্রতম তাপপ্রবাহ হতে যাচ্ছে। তীব্র গরমের কারণে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শত শত স্কুল।
সোমবার (২২ জুন) ফ্রান্সের বোর্দোতে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। তীব্র গরমে দক্ষিণ ফ্রান্সে গাড়ির ভেতরে আটকে পড়ে ২ ও ৪ বছর বয়সী দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া জিরোন্দ অঞ্চলে বয়স্ক ৩ জন এবং নদী ও হ্রদে সাঁতার কাটতে গিয়ে আরো ১৩ জন ডুবে মারা গেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটির ৮৪৫টি স্কুল পুরোপুরি বন্ধ এবং ১,৮০০টি স্কুল আংশিক বন্ধ রাখা হয়েছে। এমনকি জাতীয় উৎসব ‘ফেত দে লা মিউজিক’-এ মদ্যপান নিষিদ্ধ করেছে সরকার, যাতে স্বাস্থ্যকর্মীরা জরুরি চিকিৎসায় মনোযোগ দিতে পারেন।
স্পেনের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ইতালির মিলান, রোম ও ভেনিসসহ ১২টি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। জার্মানিতে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে এবং গরম থেকে বাঁচতে সাঁতার কাটতে গিয়ে ৫ জন মারা গেছেন। যুক্তরাজ্যেও (ইংল্যান্ড ও ওয়েলস) রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।গ্রিসে তীব্র গরমে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় প্রধান মহাসড়ক বন্ধ করতে হয়েছে। বেলজিয়ামেও রেকর্ড তাপমাত্রার কারণে বেশ কিছু ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ঘন ঘন এই ধরণের তাপপ্রবাহ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের স্পষ্ট লক্ষণ। আবহাওয়া সংস্থা মেটিও-ফ্রান্স জানিয়েছে, ১৯৪৭ সালের পর থেকে ফ্রান্সে মোট ৫১টি তাপপ্রবাহ হয়েছে, যার মধ্যে ৩৪টিই ঘটেছে ২০০০ সালের পর। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন যে, এই সপ্তাহের শেষ দিক পর্যন্ত তাপমাত্রা কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।