তথ্য গোপন, জালিয়াতি ও গুরুতর অপরাধের অভিযোগে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইওসহ মোট ১৭ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। সোমবার (৮ জুন) মার্কিন বিচার বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয়।
মার্কিন অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন অনুযায়ী, কোনো নাগরিক যদি জালিয়াতি বা মিথ্যা তথ্যের আশ্রয় নিয়ে দেশটির নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন, তবে সরকার তা বাতিল করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে এই আইন ব্যবহারের হার ব্যাপক আকারে বাড়িয়েছে বর্তমান প্রশাসন। বিচার বিভাগের তথ্যমতে, ১৭ জনের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতন, মাদক পাচার, অর্থ আত্মসাৎ ও অভিবাসন জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে আমেরিকায় নাগরিকত্ব বাতিলের ঘটনা খুবই বিরল। ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে মাত্র ৩০০টির মতো এমন মামলা হয়েছিল, যা বছরে গড়ে ১১টির মতো। আগে মূলত যুদ্ধাপরাধী বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি করা হতো।
ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বর্তমানে প্রতি মাসে ২০০টিরও বেশি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা পাঠানোর নির্দেশ পেয়েছে। ইতোমধ্যে বিচার বিভাগ ৩৮৪ জন বিদেশে জন্মগ্রহণকারী আমেরিকানকে চিহ্নিত করেছে, যাদের নাগরিকত্ব বাতিল করার পরিকল্পনা রয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন জানিয়েছেন, অভিবাসন প্রক্রিয়ায় যারা মিথ্যা বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ‘প্রতিটি আইনসম্মত পথ’ ব্যবহার করবে।
অভিযুক্ত ১৭ জন নাগরিকই ফেডারেল আদালতে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করার সুযোগ পাবেন। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তারা মার্কিন নাগরিকত্বের সব অধিকার ও সুরক্ষা হারাবেন এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত (নির্বাসন) পাঠানো হতে পারে।


