বল জালে পাঠিয়ে ছুটলেন হোসে কানালে। মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে গেলেন সতীর্থরা।
রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে জার্মানিকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে প্যারাগুয়ে। বাংলাদেশ সময় আজ ভোরে শেষ হওয়া ম্যাচে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়। পেনাল্টি শুটআউটে প্রথম পাঁচটির দুটি ঠেকিয়ে প্যারাগুয়ের নায়ক গোলরক্ষক ওরলান্দো হিল। জার্মানির বিপক্ষে তিনবারের দেখায় প্যারাগুয়ের প্রথম জয় এটি।
বিশ্বকাপে পাঁচবার টাইব্রেকারে গিয়ে এই প্রথম হারের তেতো স্বাদ পেল জার্মানি। দুইবার টাইব্রেকারে গিয়ে দুইবারই শেষ হাসি হাসল প্যারাগুয়ে।
২০১০ সালে শেষ ষোলোয় জাপানকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল প্যারাগুয়ে, যা বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য। তারপর এই প্রথম বিশ্ব মঞ্চে ফিরেছে তারা। এবার নকআউট পর্বের শুরুতে অভাবনীয় সাফল্য পেল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার প্রতিবেশী এই দেশ।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের আগের পাঁচ ম্যাচে কোনো গোলই ছিল না প্যারাগুয়ের। সেই খরা কাটিয়ে প্রথমার্ধে দলটিকে এগিয়ে নেন হুলিও এনসিসো। বিরতির পর সমতা আনেন আর্সেনাল তারকা কাই হাভার্টজ।
সেই হাভার্টজই ব্যর্থ হন টাইব্রেকারের শুরুতে। তার শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন হিল। শটে অবশ্য খুব বেশি জোরও ছিল না। জার্মানির পরের দুই শটে জাল খুঁজে পান ইয়োশুয়া কিমিখ ও জামাল মুসিয়ালা।
প্যারাগুয়ের প্রথম তিন শটেই মেলে জালের দেখা। এরপর জার্মানির চতুর্থ শট নিতে আসেন নক ভল্টেমাডা। তার শটও ঝাঁপিয়ে ঠেকান হিল।
চতুর্থ শটে গোল করে জয়ের সুযোগ তখন প্যারাগুয়ের সামনে। কিন্তু বাইরে মেরে বসেন আন্তোনিও সানাব্রিয়া। বেঁচে থাকে জার্মানির আশা।
জার্মানির পঞ্চম শট জালে পাঠান নাদিম আমিরি। প্যারাগুয়ের সামনে ম্যাচ শেষ করার সুযোগ আসে আবার। কিন্তু ফাবিয়ান বালবুয়েনার নেওয়া তাদের পঞ্চম শট ঠেকিয়ে দেন মানুয়েল নয়্যার।
এরপর সাডেন ডেথের শুরুতে উড়িয়ে মারেন জার্মানির ইয়োনাথান টাহ। এবার আর ভুল করেনি প্যারাগুয়ে। কানালে বল জালে পাঠাতেই উল্লাসে মাতে গুস্তাভো আলফারোর দল।
গত দুটি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া জার্মানি ২০১৪ সালের ফাইনালে জয়ের পর এবারই প্রথম নকআউটে উঠেছিল। কিন্তু অভাবনীয় হারে শুরুতেই বিদায় নিল ইউলিয়ান নাগলসমানের দল।
শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ফ্রান্স অথবা সুইডেনের মুখোমুখি হবে চমক জাগানো প্যারাগুয়ে।


