খবর প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী, ২০২৪, ১২:৪৫ পিএম

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: ভারতের মহারাষ্ট্রের কস্তুরবা হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সুপারবাগে সংক্রমিত প্রায় এক হাজার রোগী ভর্তি আছে। যাদের চিকিৎসা দিতে চিকিৎসকদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বিবিসি জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে ‘সুপারবাগ ইনফেকশন’। অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী এই সুপারবাগ ২০১৯ সালে ১২ লাখের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যখন কোনো ব্যাকটেরিয়া তার বিরুদ্ধে কার্যকর সব ওষুধ প্রতিরোধে সক্ষম হয়ে ওঠে, তখন তাকে সুপারবাগ বলা হয়।
ল্যানসেট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপারবাগ সংক্রমণে ২০১৯ সালে যে ১২ লাখ ৭০ হাজার মানুষ মারা গেছে, তাদের শরীরে সংক্রমণ রোধে সবচেয়ে কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হলেও তা কাজে আসেনি।
চিকিৎসকদের আশঙ্কা, ভারতে দ্রুত এই সুপারবাগ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। দেশটিতে প্রতিবছর অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণের কারণে প্রায় ৬০ হাজার নবজাতকের মৃত্যু হয়।
মহারাষ্ট্রের কস্তুরবা হাসপাতালে চালানো জরিপে দেখা গেছে, পাঁচটি প্রধান ব্যাকটেরিয়াল প্যাথোজেনকে মোকাবেলায় যেসব অ্যান্টিবায়োটিকের সবচেয়ে বেশি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো খুব কমই কাজ করছে।
এসব প্যাথোজেনের মধ্যে রয়েছে কলেরা সংক্রামক ই.কোলাই ব্যাকটেরিয়া, নিউমোনিয়ার ব্যাকটেরিয়া এবং শ্বাসনালি ও ত্বকের সংক্রামক রোগ ছড়ানো স্ট্যাফাইলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া।
এসব প্যাথোজেনের বিরুদ্ধে প্রধান যেসব অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়, সেগুলো এসব রোগ নিরাময়ে ১৫ শতাংশেরও কম কার্যকর বলে চিকিৎসকরা প্রমাণ পেয়েছেন।
কস্তুরবা হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, নিউমোনিয়া ও মূত্রনালির সংক্রমণ নিয়ে গ্রামাঞ্চল থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসায়ও অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করছে না। যেহেতু তাদের বেশিরভাগই প্রেসক্রিপশন ছাড়াই আসে ও ওষুধের নামও বলতে পারে না, তাদের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ইতিহাস জানাও তাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ভারতের অনেক চিকিৎসক কোনো বাছ-বিচার না করেই রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিক দিতে থাকেন বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
অথচ ফ্লু বা সাধারণ সর্দিজ্বর, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো ভাইরাসজনিত রোগ, এমনকি ডায়রিয়ার চিকিৎসায়ও অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। অথচ এইসব রোগের বেলায় অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো কার্যকারিতাই নেই।
সূত্র : বিবিসি।