NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩, ২০২৬ | ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্ক সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে ‘মিস্টার ভেটো’ হয়ে উঠবেন ট্রাম্প ওয়ানডে বিশ্বকাপ দেখতে এখনই ১২ কোটির বেশি আবেদন ৮৩২ কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় অভিনেত্রীর নাম পোশাক কারখানা চালু রেখে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর হ্যালোইন উৎসবের ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বন্দুক হামলা, নিহত ৬ মার্কিন-দক্ষিণ কোরীয় মহড়া পারমাণবিক যুদ্ধের প্রস্তুতি : দাবি উত্তর কোরিয়ার ৩ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে মেসির গোল, হেডে অ্যাসিস্ট যুবকদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা সরকারের : প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে ১৩৯ জন গ্রেফতার
Logo
logo

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াইয়ে রেকর্ডসংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ


খবর   প্রকাশিত:  ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১১ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াইয়ে রেকর্ডসংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনে অন্তত ১২৫ জন চিকিৎসক, নার্স ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ প্রার্থী হয়েছেন।

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে। 

 

নির্বাচনে স্বাস্থ্য খাতের পেশাজীবীদের এত বিপুলসংখ্যক অংশগ্রহণকে নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ অতীতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ কিংবা আদালতের তুলনায় রাজনীতিতে এসে নির্বাচিত পদে দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ তাদদের জন্য অনেক কম ছিল।

কভিড-১৯ মহামারির পর থেকেই স্বাস্থ্য খাতের এসব পেশাজীবীর রাজনীতিতে আসার প্রবণতা বাড়তে শুরু করে।

মহামারির শুরুর দিকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ব্যাপক প্রশংসা পেলেও সময়ের সঙ্গে তাদের কাজের চাপ ও নানা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের দেওয়া স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ নিয়েও অবিশ্বাস তৈরি হয়। এমনকি রাজনৈতিক কারণের আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে তাদের।

 

কয়েকজন প্রার্থী জানিয়েছেন, মহামারির অভিজ্ঞতা থেকেই তারা উপলব্ধি করেন, স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান বিষয়ে তাদের প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতার সঙ্গে সরকার ও রাজনীতির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।

আগে তারা বিষয়টি যতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করতেন, বাস্তবে তা তার চেয়েও বেশি।

 

মিশিগানের ওয়েইন কাউন্টির সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক ড. আব্দুল এল-সায়েদ এবার মার্কিন সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

রাজনীতি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের কাজের মধ্যে মিল তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানে আপনি যে বিষয়গুলো শেখেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো, মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, যন্ত্রণায় থাকা মানুষের পাশে বসা এবং শরীরের কার্যপ্রণালী ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিজের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তাদের সামনে সম্ভাব্য পথগুলো তুলে ধরা। আমার মনে হয়, রাজনীতির কাজও অনেকটা একই রকম।’

প্রতিরোধমূলক চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড. অ্যামি অ্যাক্টন একসময় ওহাইওর রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইনের অধীনে জনস্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এবার তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে রাজ্যটির গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে তার প্রতিপক্ষ রিপাবলিকান দলের বায়োটেক খাতের ধনকুবের বিবেক রামাস্বামী।

 

অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন জেভিয়ার বেসেরা। তিনি সাবেক কংগ্রেসম্যান এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান ঘরানার গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব স্টিভ হিলটন।

সাউথ ক্যারোলাইনার ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যানি অ্যান্ড্রুস এবার মার্কিন সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রার্থীদের তালিকায় এমন কয়েকজনও রয়েছেন, যাদের সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক আইনজীবী সিন্ডি ওয়ার্মিংটন। তিনি নিউ হ্যাম্পশায়ারের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। অন্যদিকে জর্জিয়ার গভর্নর পদে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিক জ্যাকসন। তিনি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘জ্যাকসন হেলথকেয়ার’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)।

রাটগার্স ইউনিভার্সিটির ‘ঈগলটন সেন্টার অন দ্য আমেরিকান গভর্নর’-এর পরিচালক ও ইতিহাসবিদ ডা. ক্রিস্টোফার শিল্ডস বলেন, ‘আমি আগে কখনো ঠিক এমন ঘটনা দেখিনি। বিজ্ঞান ও রাজনীতির মধ্যকার সম্পর্ক বরাবরই কিছুটা দুর্বল।’ বর্তমান মার্কিন কংগ্রেসের ১০ শতাংশেরও কম সদস্যের চিকিৎসাবিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য বা প্রকৌশল বিষয়ে ডিগ্রি রয়েছে। অন্যদিকে সিনেটের ৪৭ শতাংশ এবং প্রতিনিধি পরিষদের ৩১ শতাংশ সদস্যের আইন বিষয়ে ডিগ্রি রয়েছে।

মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট, উভয় দলের চিকিৎসকদের ছোট হলেও সক্রিয় দুটি গোষ্ঠী রয়েছে। বর্তমানে মার্কিন সিনেটে স্বাস্থ্যসেবা খাতের অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন চারজন সদস্য আছেন। তারা সবাই রিপাবলিকান দলের এবং পেশায় চিকিৎসক। তারা হলেন, ওয়াইওমিংয়ের জন ব্যারাসো, লুইজিয়ানার বিল ক্যাসিডি, কানসাসের রজার মার্শাল এবং কেনটাকির র‍্যান্ড পল।

অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) রয়েছেন ১৭ জন চিকিৎসক, চারজন দন্তচিকিৎসক, দুইজন ফার্মাসিস্ট, একজন নার্স প্র্যাকটিশনার, একজন চক্ষুসেবা বিশেষজ্ঞ (অপটোমেট্রিস্ট) এবং একজন পুনর্বাসন থেরাপিস্ট।

রাজ্য পর্যায়েও আইনপ্রণেতাদের মধ্যে চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের সংখ্যা আরো কম। শুধু তা-ই নয়, এ সংখ্যা দিন দিন কমছে। রাটগার্স ইউনিভার্সিটির ‘সায়েন্টিস্টস ইন স্টেট পলিটিক্স ডেটাবেস’ নিয়ে করা এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য আইনসভাগুলোর সদস্যদের মাত্র ৩ শতাংশের চিকিৎসা, বিজ্ঞান বা প্রকৌশল বিষয়ে পেশাগত পটভূমি ছিল। আগের বছরের তুলনায় এ হার ২৫ শতাংশ কম।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে একমাত্র হাওয়াইয়ের গভর্নর জশ গ্রিনের চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি রয়েছে। তবে কোনো অঙ্গরাজ্যের গভর্নরেরই জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ডিগ্রি নেই। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হননি।

দেশটির নবম প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম হেনরি হ্যারিসন একসময় মেডিকেল স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন। তবে অর্থাভাবে তাকে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়। পরে তিনি সৈনিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।