NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬ | ১ কার্তিক ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
আ.লীগের সভা: শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি আবারো ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা শেখ হাসিনার, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান মেসির ইন্টার মায়ামির সামনে আটলান্টা ইউনাইটেডের চ্যালেঞ্জ, মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষা প্লে-অফের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই: সিটি ফিল্ডে এনওয়াইসিএফসির মুখোমুখি এলএএফসি জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন রাখা ও সংস্কারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামিলি কার্ডে দারিদ্র্য কমবে ৫ শতাংশ : তিতুমীর যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে বন্দুক হামলা, ৩ শিশুসহ শিক্ষক নিহত ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল আলবেনিয়া, পদত্যাগ করবেন না জানালেন প্রধানমন্ত্রী লাউতারোর জায়গায় আর্জেন্টিনা দলে সুযোগ পেতে পারেন ব্রাজিলের ক্লাবে খেলা স্ট্রাইকার মেয়ের প্রথম জন্মদিনে কী লিখলেন অপূর্ব?
Logo
logo

আ.লীগের সভা: শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি


Shibbir Ahmed   প্রকাশিত:  ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:১০ এএম

আ.লীগের সভা: শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি

শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এক ভার্চুয়াল সভা গত শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি, বঙ্গবন্ধুকন্যা ও জননেত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের প্রকৃত অবস্থা এবং জনগণের পরিস্থিতি সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে জানতে এবং দলের সাংগঠনিক অবস্থা পর্যালোচনা করতে তিনি পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগের ৮৩টি জেলা শাখা ও ১৬০টি নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এবং পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, যেখানে সাংগঠনিক শূন্যতা রয়েছে, সেখানে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শক্তি জনগণ এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। দল তাদের ওপর আস্থা রাখে এবং অন্য কোনো শক্তির ওপর নির্ভর করে না।

তিনি আরও বলেন, গত প্রায় দুই বছরে রাজনৈতিক পরিচয়নির্বিশেষে যারা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাঁদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে জনগণকে সচেতন করতে তা প্রচার করতে হবে। একই সঙ্গে যারা নির্যাতন ও নিপীড়নের জন্য দায়ী, তাদের পরিচয় ও কর্মকাণ্ডও তুলে ধরতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, নিরপরাধ অনেক সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি তাঁদের মুক্তির দাবি জানান।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন। এর ফলে অনেক পুলিশ সদস্য নিহত হন, তাঁদের মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং থানায় লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া তথ্যের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশ এখন অন্ধকারে নিমজ্জিত। নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, চাঁদাবাজি, মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন ধরনের অন্যায় কর্মকাণ্ড চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, সরকার এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে চোখ বন্ধ করে রয়েছে এবং সরকারের নেতাকর্মীদের অন্যায় করার সুযোগ দিচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার জনগণকে খাবার দিতে না পারলেও লাশ উৎপাদন করতে পারছে।

দেশকে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে দেশে ফেরার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি দেশে ফিরতে আগ্রহী হলেও সরকার তাঁর ফেরার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি দেশে ফিরতে আগ্রহী, অথচ সরকার বাধা সৃষ্টি করছে।”

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যত নির্যাতনই করা হোক কিংবা যত মৃত্যুদণ্ডই দেওয়া হোক, তাঁদের জনগণের পাশে থাকতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সভায় আওয়ামী লীগ নেতারা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে তথাকথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বাতিল এবং তাঁদের ভাষায় অবৈধ ট্রাইব্যুনাল বিলুপ্ত করার দাবি জানান।

সভায় দেশের চলমান আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উত্তরণ, তেল, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সরবরাহ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং অর্থনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

সভায় আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি তথাকথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বলে দলটি মনে করে। এসব নেতার মধ্যে রয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল, অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আরাফাত, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ এনানসহ অন্যরা।

সভায় ট্রাইব্যুনালের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই বলে মত প্রকাশ করা হয় এবং এর কর্মকাণ্ডের তীব্র বিরোধিতা করা হয়। আলোচনা শেষে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য কমানো, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা, চাকরি হারানো শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি, সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং শেখ হাসিনা ও অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে তথাকথিত আইসিটি ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বাতিলের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দলটি ট্রাইব্যুনালটিকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তা বিলুপ্ত করার দাবি জানায়।

সভায় প্রজাতন্ত্রের নিরপরাধ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তার হওয়া কর্মকর্তাদের মুক্তি নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়। আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস সভা সঞ্চালনা করেন। সভায় বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন ও সুজিত রায় নন্দী, সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আরাফাত, উপদপ্তর সম্পাদক রায়হান আরেংসহ অন্যান্য নেতা। বক্তারা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। সভায় কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের অন্যান্য নেতারাও অংশ নেন।