NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, অক্টোবর ৯, ২০২৬ | ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
১০ অক্টোবর মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-স্পেন, নারী ফুটবলে হাইভোল্টেজ ফ্রেন্ডলি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী পুতিনের ৭৪তম জন্মদিনে কিমের শুভেচ্ছা ‘তেলের বাজারও বোঝে আপনি মিথ্যা বলছেন’, ট্রাম্পকে আইআরজিসি কর্মকর্তা মেসির বিদায়ে আবেগঘন বার্তা পূর্ণিমা-পরীমনিদের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন আইনি বিষয়: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের কাজের অনুমতির জন্য ৭০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব এভিয়েশন হাব গড়তে লুফথানসার সঙ্গে কাজ করতে চায় সরকার : বিমানমন্ত্রী ইসলামপন্থীরা ক্ষমতা দখল করতে চাইছে : ট্রাম্প
Logo
logo

অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হারুন চৌধুরীকে দেখতে গেলেন বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ


খবর   প্রকাশিত:  ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:১০ পিএম

অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হারুন চৌধুরীকে দেখতে গেলেন বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ

ভার্জিনিয়া — বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ সাংবাদিক ও লেখক হারুন চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে এবং তাঁর প্রতি সহমর্মিতা জানাতে সম্প্রতি একদল বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা ও সাংবাদিক ভার্জিনিয়ায় তাঁর বাসভবনে যান।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন শিব্বীর আহমেদ, জেডআই রাসেল, শেখ সেলিম, সাদেক এম. খান এবং জুয়েল বড়ুয়া। তাঁরা ৭৭ বছর বয়সী সাবেক এই যুদ্ধকালীন কমান্ডারের সঙ্গে কিছু সময় কাটান এবং তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। বয়সজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে বর্তমানে তিনি অনেকটাই ঘরবন্দি জীবনযাপন করছেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, হারুন চৌধুরী ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপসহ একাধিক দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এসব শারীরিক জটিলতার কারণে তাঁর চলাফেরা অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজের জন্য তাঁকে অন্যের সহায়তা নিতে হয়।

সাক্ষাতের সময় দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্পর্কের নানা স্মৃতি এবং পুরোনো দিনের গল্প নিয়ে আলোচনা হয়। বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে প্রাণবন্ত স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে সময় কাটান হারুন চৌধুরী। দীর্ঘদিনের পরিচিতজনদের এই সাক্ষাৎ তাঁর জন্য স্বস্তি ও মানসিক সমর্থনেরও উপলক্ষ হয়ে ওঠে।

হারুন চৌধুরীর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালে তিনি ভারতের আগরতলার মেলাঘরে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরে তিনি সেক্টর-২-এর কে ফোর্সে মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ ও মেজর হায়দারের অধীনে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি শ্রীনগর থানার এলাকায় পরিচালিত সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

স্বাধীনতার পর হারুন চৌধুরী সাংবাদিকতা ও লেখালেখিকে তাঁর পেশাগত জীবনের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন। দীর্ঘদিন তিনি সাপ্তাহিক ঠিকানা-এর ওয়াশিংটন, ডিসি প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তিনি সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে পরিচিত ও সম্মানিত হয়ে ওঠেন।

মুক্তিযুদ্ধ ও সাংবাদিকতা নিয়ে তাঁর বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আমার মুক্তিযুদ্ধ আমার অহংকার ১৯৭১, যেখানে তিনি তাঁর মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন, এবং সাংবাদিকের সংবাদ, যেখানে সাংবাদিকতা-জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ স্থান পেয়েছে। বই দুটি প্রকাশ করেছে অনন্যা প্রকাশনী।

সাক্ষাৎ শেষে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বাংলাদেশের জন্য হারুন চৌধুরীর মুক্তিযুদ্ধকালীন ত্যাগ এবং পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকতা ও প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, সাংবাদিক এবং তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের প্রতি এই প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক এবং তাঁর পরিবারের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানানোর আহ্বান জানান।