NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ | ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
Logo
logo

ঢাকার সাংবাদিকদের সাথে নিউইয়র্কের সাংবাদিকদের বৈঠক


খবর   প্রকাশিত:  ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৯ এএম

ঢাকার সাংবাদিকদের সাথে নিউইয়র্কের সাংবাদিকদের বৈঠক

হাকিকুল ইসলাম খোকন,

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে এই সময় কর্মব্যস্ত থাকেন দেশ—বিদেশের সাংবাদিকরা। সেই ফাঁকে বাংলাদেশ থেকে আসা সাংবাদিক ও নিউইয়র্কে কর্মরত সাংবাদিকদের আড্ডার আয়োজন করে নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব। জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্টুরেন্টে ২২ সেপ্টেম্বর২০২৬, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমিন মজুমদার ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাথির খান ফারুকী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে আগত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী ।
আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক মনজুর আহমেদ, বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, উপদেষ্টা সম্পাদক আনোয়ার হোসাইন মনজু, মাহমুদ খান তাসের, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব এর সাবেক দুই সহ-সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক ও লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকন ও লায়ন রিমন ইসলাম,কলামিস্ট সাঈদ তারেক, কবি এবিএম সালেহ উদ্দীন, মূলধারার রাজনীতিক অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজ যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালক ফখরুল আলম এবং নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি চৌধুরী সারোয়ারুল হাসান, প্রবীণ সাংবাদিক শামসুল হক, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ সিরাজ,এনটিভি’র উত্তর আমেরিকা ব্যুরো চিফ ফরিদ আলম, গাউছুল আজম বিপু, আরিফুল ইসলাম মামুন, আবুল কাশেম, সুলতানা রহমান, আলমগীর হোসেন, শান্ত বিশ্বাস ও প্রবাসের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকেরা। এছাড়া ছিলেন বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নাালের সম্পাদক ও প্রকাশক আবু রুশদ এআরএম শহিদুল ইসলাম, কেরামতউল্লাহ বিপ্লব, নুরুল আলম রোকন সহ দেশের অনেক সাংবাদিক।
গল্প, স্মৃতিচারণ, পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় আর হাসি—আড্ডায় জমে ওঠে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘সাংবাদিক আড্ডা’।
বাংলাদেশ থেকে আগত এবং নিউইয়র্কে কর্মরত সাংবাদিকরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হন। দীর্ঘদিন পর পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় অনেকেই ফিরে যান স্মৃতির পাতায়। সাংবাদিকতা জীবনের মজার, কঠিন ও স্মরণীয় নানা অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন তাঁরা। ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতায় কাজ করলেও পেশাগত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে আলোচনায়। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন দেশ ও প্রবাসে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে যোগাযোগ, সৌহার্দ্য ও পেশাগত সম্পর্ক আরও জোরদার করবে।History
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দানকালে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতা হচ্ছে সত্যের আরাধনা। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকের কাজ সত্যকে খুঁজে বের করা এবং সে সত্যকে রক্ষা করা। সত্য না থাকলে আস্থা থাকে না, আর আস্থার অভাব হলে গণতন্ত্র থাকে না। সাংবাদিকতা হবে পুরোপুরি সত্যতার ভিত্তিতে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে মিথ্যা কিংবা অর্ধ—সত্যের কোনো স্থান নেই। এ ক্ষেত্রে আপসেরও কোনো সুযোগ নেই। সংবাদপত্র দেশের জনগণ ছাড়া কারও কাছে দায়বদ্ধ নয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান এ বিষয়টি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দেখেছি—যারা দীর্ঘদিন ধরে দলীয় ব্যানারের আড়ালে সাংবাদিকতা করেছেন, ক্ষমতার সঙ্গে আঁতাত করে জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছেন, তারা শেষ পর্যন্ত জনগণের রোষানল থেকে বাঁচতে পারেননি।
গণমাধ্যমের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার প্রসঙ্গে বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, অধিকাংশ মিডিয়ার প্রাতিষ্ঠানিকতা নেই। তারা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা না করে ব্যবসায়ীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে নানাভাবে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করা অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। মোবাইল ফোন হাতে নিয়েই অনেকে সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছেন। এর ভয়াবহতা থেকে কেউই নিরাপদ নয়। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করেও সামাজিকভাবে মানুষকে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে।
এসব বন্ধে আইনের সঠিক প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অপসাংবাদিকতা ও হয়রানি রোধে আইনের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। তবে একই সঙ্গে আইন যেন অপব্যবহার না হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে সাগর—রুনিসহ অনেক সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন। কথায় কথায় সাংবাদিকদের চাকরীচ্যুত করা হয়। সাংবাদিকরা জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে কথা বললেও কর্মক্ষেত্রসহ কোথাও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। একই সঙ্গে চাকরির নিশ্চয়তাও নেই।
সাংবাদিক সমাজের বিভাজন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএফইউজে মহাসচিব। তিনি বলেন, আজকে আমাদের মাঝে বহু বিভাজনের কারণে আমরাই দুর্বল হচ্ছি। সরকার ও মালিকরা এর সুযোগ নেন। তিনি সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে গণমাধ্যমের অনেক সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা যাবে।
দীর্ঘদিন পর পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় অনেকেই ফিরে যান স্মৃতির পাতায়। সাংবাদিকতা জীবনের মজার, কঠিন ও স্মরণীয় নানা অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন তাঁরা। গল্প, হাসি, স্মৃতিচারণ এবং পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে আন্তরিক ও প্রাণবন্ত। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল সন্ধ্যা ৮টায়।সভাপতি অনুষ্ঠানে আসেন রাত ৯টার পর ।অনুষ্ঠান শুরু করা হয় সভাপতি আসার কিছুক্ষণ পূর্বে ।তবে  মঞ্চের চেয়ার নিয়ে শুরু এক ধরনের কারাকারি ।প্রবীন সাংবাদিক কাজী শামছুল হক  মঞ্চে আসন গ্রহণ করলেও ।পেছনে বসার জন‍্য বলা হয় ।তিনি পিছনের  সারিতে বসলেও তৎক্ষনাৎ অনুষ্ঠান থেকে বেড হয়ে যান ।বাপসনিউজকে ঢাকা থেকে একটি দৈনিক পত্রিকার প্রতিনিধি বলেছেন অনুষ্ঠানের মান খুবই নিম্নমানের ছিল ।অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির মান-সম্মানের দিকে চেয়ে ঢাকার সাংবাদিকগন চুপ করে ছিলেন ।তারা অভিযোগ করেছেন অনুষ্ঠানে কিছু হট্টগোল-মারমুখী ঘটনা ছিল যা কারো তুখোড় এড়াইনি ।সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠান প্রেস ক্লাবের কোথাও ব‍্যানার বা পোস্টার এ পবিত্র ধর্ম শব্দ ব‍্যবাহার করার নিয়ম নাথাকলেও উক্ত অনুষ্ঠানের ব্যানারে ব‍্যাবহার করে অনুষ্ঠানের মানকে খাটো করা হয়েছে বলে জনপ্রিয় পোর্টাল আইবিএননিউজ২৪.কমকে জানিয়েছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত বেশ কজন সাংবাদিক ।অনুষ্ঠান শুরুর পরে প্রেসক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম অনুষ্ঠান উপস্থিত হলে তিনি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং উপস্থিত সাংবাদিক ও সুধীজনদের নিজ নিজ পরিচয় তুলে ধরার অনুরোধ জানান ।উপস্থিত সবাই তাদের পরিচয় তুলে ধরার পরও সভাপতি কেন পুনরায় উপস্থিত ৮/১০ এর নাম পরিচয় করে দেন ।তা নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিরুপ মন্তব্য করেছেন ।