NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ | ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউইয়র্কে ৫৭ দেশের অংশগ্রহণে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ সম্প্রসারণ করলেন মেলানিয়া ট্রাম্প মেলানিয়ার ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ অনুষ্ঠানে জুবাইদা রহমান জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক জাতিসংঘে ইরান যুদ্ধের পক্ষে ট্রাম্প, চুক্তি না হলে ‘ধ্বংসের’ হুঁশিয়ারি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে শিশুদের প্রযুক্তি শিক্ষায় বৈশ্বিক জোট সম্প্রসারণের ঘোষণা মেলানিয়ার জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে তিন গণমাধ্যম বৈশ্বিক কূটনীতিতে প্রথম পরীক্ষায় যুক্তরাজ্যের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম
Logo
logo

নিউইয়র্কে ৫৭ দেশের অংশগ্রহণে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ সম্প্রসারণ করলেন মেলানিয়া ট্রাম্প


Shibbir Ahmed   প্রকাশিত:  ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:০৯ এএম

নিউইয়র্কে ৫৭ দেশের অংশগ্রহণে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ সম্প্রসারণ করলেন মেলানিয়া ট্রাম্প

শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প মঙ্গলবার নিউইয়র্কের দ্য সেন্ট রেজিস নিউইয়র্কে ৫৭টি দেশের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে তার ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ উদ্যোগের নতুন পর্যায়ের কার্যক্রম তুলে ধরেছেন। শিশুদের শিক্ষা, প্রযুক্তি, ডিজিটাল দক্ষতা ও অনলাইন নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অনুষ্ঠানে নতুন বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব এবং ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কর্মসূচির পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণে গঠিত আন্তর্জাতিক জোটটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেলানিয়া ট্রাম্পের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে নতুন সদস্য দেশকে স্বাগত জানানো, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নতুন কৌশলগত অংশীদারিত্ব ঘোষণা এবং ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কর্মসূচির ক্যালেন্ডার তুলে ধরার কথা ছিল।

‘শিশুদের অগ্রাধিকার দিতে হবে’: মেলানিয়া ট্রাম্প

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মেলানিয়া ট্রাম্প শিশুদের শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রযুক্তির বিকাশ যেন শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণে কাজে আসে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “সত্যিকারের ক্ষমতায়ন শুরু হয় একটি শিশুকে এই আত্মবিশ্বাস দেওয়ার মাধ্যমে যে তার চিন্তার মূল্য রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, শিশুদের এমন স্বাধীনতা দিতে হবে, যাতে তারা নিজেদের পরিচিত জগতের বাইরেও একটি ভবিষ্যৎ কল্পনা করতে পারে।

মেলানিয়া বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিশুদের প্রস্তুত করতে শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ। নতুন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুযোগ আরও বিস্তৃত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন।

‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ উদ্যোগের চারটি প্রধান ক্ষেত্র হলো—শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), শিক্ষাপ্রযুক্তি (EdTech), অনলাইন সুরক্ষা এবং ডিজিটাল দক্ষতা। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী দেশের ফার্স্ট স্পাউস ও সমপর্যায়ের নেতারা নিজ নিজ সরকারের সঙ্গে কাজ করে শিশু, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহায়তায় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অনলাইন ঝুঁকি থেকে শিশুদের সুরক্ষার উপায় নিয়ে কাজ করছেন।

মেলানিয়া ট্রাম্প এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’-এর ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান। তিনি বলেন, উদ্যোগটির প্রথম G20 সম্মেলন ডিসেম্বরে মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মেলানিয়া অংশগ্রহণকারী নেতাদের আলোচনাকে বাস্তব উদ্যোগে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইতিহাস যেন মনে রাখে—অসাধারণ সম্ভাবনার এক সময়ে বিশ্বের নেতারা একত্রিত হয়ে শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।

বক্তব্য দেন মাইকেল ওয়াল্টজ ও চ্যারিটি ওয়ালেস

অনুষ্ঠানের তালিকাভুক্ত বক্তাদের মধ্যে ছিলেন মেলানিয়া ট্রাম্প, জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওয়াল্টজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পেশাল এনভয় ফর বেস্ট ফিউচার জেনারেশনস’ চ্যারিটি ওয়ালেস। ওয়াল্টজ মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু সচেতনতা তৈরি করা নয়, বরং এর উদ্দেশ্যকে বাস্তব কার্যক্রমে রূপ দেওয়া।

চ্যারিটি ওয়ালেসও উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্ত মার্কিন সরকারের কার্যক্রম সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সোমবার তার আয়োজনে স্টেট ডিপার্টমেন্ট নতুন সাতটি প্রযুক্তি-খাতের অংশীদারিত্বের ঘোষণা দেয়।

সাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নতুন অংশীদারিত্ব

‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’-এর আওতায় Adobe, Amazon, Google, Intel, N50, Starlink এবং Zoom-এর সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এসব অংশীদারিত্ব ১৫টিরও বেশি দেশের সঙ্গে যুক্ত এবং শিশু ও তরুণদের জন্য শিক্ষা, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল দক্ষতার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে Google-এর ৪ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, যার মাধ্যমে Google AI Educator Series সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়া Zoom-এর AI for Good উদ্যোগের আওতায় নতুন করে ২ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের অনুদান দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে। অন্য অংশীদারিত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষা, ডিজিটাল সাক্ষরতা, কোডিং, ইন্টারনেট সংযোগ এবং প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের বিভিন্ন কর্মসূচি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট স্পাউসদের অংশগ্রহণ

নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে জোটের ৫৭ সদস্য দেশের প্রতিনিধিত্ব ছিল। স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, এই জোটে ফ্রান্স, পোল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পানামা, ফিলিপাইন, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, ইসরায়েল, মরক্কো, কেনিয়া, তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট স্পাউসরা যুক্ত রয়েছেন।

নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুশোর দানের সঙ্গী মিরাবেলা গ্রাদিনারু-র উপস্থিতির কথা রোমানিয়ার সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কেনিয়ার ফার্স্ট লেডি র‍্যাচেল রুটোর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন বলে ওইসব প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ৫৭ সদস্য দেশের সংখ্যা পুরো জোটের সদস্যসংখ্যা বোঝায়; নিউইয়র্কের সেন্ট রেজিস অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রত্যেক ব্যক্তির নামের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

৪৫ দেশ থেকে ৫৭ দেশে সম্প্রসারণ

মার্চে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈশ্বিক সম্মেলনের পর ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ উদ্যোগটি আরও বিস্তৃত হয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ও ২৫ মার্চ ২০২৬ ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিটে ৪৫টি দেশের ফার্স্ট স্পাউস ও সমপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সম্মেলনে শিক্ষাপ্রযুক্তি, শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অনলাইন নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সাক্ষরতা নিয়ে আলোচনা হয়।

এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে মেলানিয়া ট্রাম্প ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ উদ্যোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেন। উদ্যোগটির ঘোষিত লক্ষ্য হলো শিক্ষা, উদ্ভাবন ও দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল যুগে শিশুদের বিকাশে সহায়তা করা এবং অনলাইন ঝুঁকি থেকে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

উদ্যোগে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা

‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ উদ্যোগে বাংলাদেশও অংশ নিয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান মার্চে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিটে মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে অংশ নেন। ওই সম্মেলনে জুবাইদা রহমান শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি এবং শিশুদের কল্যাণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশে পরিবার ও শিশুদের সহায়তায় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।

মার্চের ওয়াশিংটন সম্মেলনে জুবাইদা রহমান মেলানিয়া ট্রাম্পসহ বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট লেডি ও নেতাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে তিনি হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানেও অংশ নেন।

আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সহযোগিতার নতুন পর্ব

নিউইয়র্কের এই আয়োজন শিশুদের শিক্ষা ও ডিজিটাল উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ওপর উদ্যোগটির বাড়তে থাকা গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট স্পাউস ও সমপর্যায়ের নেতারা নিজ নিজ সরকারের সঙ্গে কাজ করে শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রশিক্ষণ এবং শিশুদের জন্য নতুন শিক্ষার পরিবেশ তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন।

৫৭টি দেশের সদস্যপদ এবং নতুন বেসরকারি অংশীদারদের যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ এখন এর প্রাথমিক সম্মেলন পর্যায় থেকে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দিকে এগোচ্ছে। আগামী মাসগুলোতে আরও আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং ডিসেম্বরে মায়ামিতে G20-সংক্রান্ত আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।