Shibbir Ahmed প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৯ এএম

শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক — শিশুদের শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণে নিজের উদ্যোগ ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ জোটের সদস্যদেশের সংখ্যা ৫৭টিতে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের জন্য কয়েকটি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক কর্মসূচি এবং প্রযুক্তি খাতের নতুন অংশীদারিত্বের কথা জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পার্শ্ববর্তী এক আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট স্পাউস ও প্রতিনিধিদের নিয়ে জোটটির সদস্যদের পুনরায় একত্র করেন মেলানিয়া।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, পোল্যান্ড, ইউক্রেন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পানামা ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, “আমরা সংস্কৃতি, ভাষা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক সুন্দর বৈচিত্র্য। তবু একটি চিরন্তন সত্যে আমরা ঐক্যবদ্ধ—আজ আমরা আমাদের শিশুদের জন্য যা করব, তার ওপরই আমাদের বিশ্বের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।”
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মেলানিয়া ট্রাম্প Fostering the Future Together উদ্যোগের ঘোষণা দেন। এর লক্ষ্য শিশুদের শিক্ষা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার সুযোগ বাড়ানো। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, উদ্যোগটির আওতায় শিশু, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি অনলাইন ঝুঁকি থেকে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছরের মার্চে ওয়াশিংটনে জোটটির প্রথম দুই দিনের বৈশ্বিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৪৫টি দেশের ফার্স্ট স্পাউস বা সমপর্যায়ের প্রতিনিধি এবং প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল কোনো মার্কিন ফার্স্ট লেডির আয়োজনে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এ ধরনের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সমাবেশ।
মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে মেলানিয়া ২০২৬ সালের কয়েকটি নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এর মধ্যে রয়েছে ডিসেম্বরে মিয়ামিতে তার আয়োজনে জি২০-সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠান, ফিলিপাইনের ফার্স্ট লেডি লিজা আরানেতা মার্কোসের আয়োজনে ম্যানিলায় আসিয়ান সম্মেলন, পোল্যান্ডের ফার্স্ট লেডি মার্তা নাভরোক্কার আয়োজনে ইউরোপীয় আঞ্চলিক বৈঠক এবং সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের ফার্স্ট লেডি দিয়ানি প্রিন্স-ড্রুর আয়োজনে ক্যারিবীয় আঞ্চলিক সম্মেলন।
মেলানিয়া বলেন, “যখন দেশগুলো এক কণ্ঠে কথা বলে, বিশ্ব তখন তা শোনে। আমাদের সম্মিলিত প্রভাব গভীর। আমরা একসঙ্গে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারি, বাজারে পরিবর্তন আনতে পারি, নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারি। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—আমরা মানুষের জীবনকে আরও ভালোভাবে বদলে দিতে পারি।”
প্রযুক্তি খাতের সঙ্গেও জোটটির নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, Adobe, Amazon, Google, Intel, N50, Starlink এবং Zoom—এই সাতটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ১৫টির বেশি দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শিশু ও তরুণদের শিক্ষা এবং প্রযুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে। Amazon আলাদাভাবে জানিয়েছে, তারা জোটটির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষাসামগ্রী ও শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করবে।
মেলানিয়া বলেন, শুধু প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; শিশুদের এসব প্রযুক্তি দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতাও দিতে হবে। তিনি বলেন, “শুধু প্রবেশাধিকারই ক্ষমতায়ন নয়। আমাদের শিশুদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি দিতে হবে এবং সেই প্রযুক্তি কীভাবে বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হয়, তা শেখাতে হবে।”
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভিডিও যোগাযোগ, মোবাইল কম্পিউটিং, চালকবিহীন গাড়ি, ভার্চুয়াল জগত এবং বায়োমেট্রিক পরিচয় ব্যবস্থার মতো প্রযুক্তি কীভাবে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে, বক্তৃতায় তার উদাহরণ দেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, Fostering the Future Together উদ্যোগের চারটি প্রধান ক্ষেত্র হলো—শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, এডটেক বা শিক্ষা প্রযুক্তি, অনলাইন সুরক্ষা এবং ডিজিটাল দক্ষতা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও শিশুদের ভবিষ্যতের প্রশ্নে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান মেলানিয়া। তিনি বলেন, “বহু বছর পর আমাদের শিশুরা হয়তো আমরা কোন বৈঠক করেছি বা কী বক্তব্য দিয়েছি তা মনে রাখবে না। কিন্তু আমরা এখানে যা করছি, তার পরিণতি তাদের জীবনকে প্রভাবিত করবে।”
তরুণদের কল্পনার সীমানা বাড়ানো, জ্ঞানের নতুন দিগন্ত অনুসন্ধান, হিসাব করে ঝুঁকি নেওয়া এবং সমাজের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখার মতো সক্ষমতা গড়ে তুলতে এই জোট কাজ করবে বলেও জানান তিনি। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, Fostering the Future Together-এ সদস্য হওয়ার জন্য কোনো ফি নেই। তবে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নিজেদের কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট ভ্রমণসহ পরোক্ষ ব্যয় বহন করবে।