Shibbir Ahmed প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ড্রোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো তাদের কার্যক্রমের ধরন দ্রুত পরিবর্তন করছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।
৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিরাপত্তা পরিষদের এক বিশেষ বৈঠকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের পরিবর্তিত চিত্র এবং উদীয়মান প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলেন, ২০০১ সালের পর সন্ত্রাসী হুমকির ধরন যেমন পরিবর্তিত হয়েছে, তেমনি প্রযুক্তির অগ্রগতিও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য ভার্চুয়াল স্পেস ব্যবহার করে সমর্থক খোঁজা, প্রচারণা চালানো এবং বিশেষ করে তরুণদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
জাতিসংঘের কাউন্টার-টেররিজম কমিটির নির্বাহী অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর প্রচারণা ও নিয়োগ কার্যক্রমকে আরও দ্রুত এবং বিস্তৃত করতে সহায়তা করতে পারে।
এআই ও অনলাইন প্রচারণা নিয়ে উদ্বেগ
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলেন, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এআই ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট, ডিপফেক এবং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া উগ্রবাদী প্রচারণা অনলাইন পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে। এ ছাড়া এনক্রিপ্টেড যোগাযোগব্যবস্থা এবং অনলাইন আর্থিক সেবার অপব্যবহারও সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থাগুলোর জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
ড্রোন ব্যবহারে নতুন ঝুঁকি
সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন বা আনম্যানড এয়ারক্রাফট সিস্টেম (UAS) ব্যবহারের বিষয়টিও জাতিসংঘের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। জাতিসংঘের কাউন্টার-টেররিজম কমিটির নির্বাহী অধিদপ্তর জানিয়েছে, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ও আনম্যানড এয়ারক্রাফট সিস্টেম তাদের কার্যক্রমে ব্যবহারের সুযোগ খুঁজছে। কিছু অঞ্চলে দুর্বল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এ ধরনের প্রযুক্তি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে পৌঁছানোর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
জাতিসংঘের কাউন্টার-টেররিজম কার্যক্রমে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে এআই, ভার্চুয়াল সম্পদ, থ্রিডি প্রিন্টিং এবং ড্রোনসহ উদীয়মান প্রযুক্তির সন্ত্রাসী অপব্যবহার মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান
জাতিসংঘ বলেছে, পরিবর্তিত সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলায় জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলেন, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কৌশলও পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই নতুন প্রযুক্তির অপব্যবহার শনাক্ত ও প্রতিরোধে দেশগুলোর সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।