NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬ | ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
Logo
logo

ইয়েমেনে সংঘাতে ঘরছাড়া প্রায় ৮৬ হাজার: জাতিসংঘ


Shibbir Ahmed   প্রকাশিত:  ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম

ইয়েমেনে সংঘাতে ঘরছাড়া প্রায় ৮৬ হাজার: জাতিসংঘ

শিব্বীর আহমেদ, জাতিসংঘ, নিউইয়র্ক — ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় প্রায় ৮৬ হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও অস্থিরতার মধ্যে নতুন করে এই ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি দেশটির ভয়াবহ মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, ইয়েমেনে মোট ৮৫ হাজার ৮১৮ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৮২ হাজারের বেশি মানুষ। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় এই সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

হুথি বাহিনী ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলীয় এলাকায় অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করায় সৌদি আরব-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনীর সঙ্গে তাদের তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা হুথিদের একটি হামলা প্রতিহত করে পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজে অগ্রসর হয়েছে। অন্যদিকে হুথিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে হুথিদের এই দাবির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংঘাতের বিস্তার আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বাড়িয়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে হুথিদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতা থেকে বাঁচতে ২ হাজারের বেশি ইয়েমেনি নৌপথে জিবুতিতে পাড়ি দিয়েছে। এ ছাড়া আরও হাজার হাজার মানুষ ইয়েমেনের ভেতরেই নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই ইয়েমেন দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মধ্যে রয়েছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি দেশটিতে তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ তৈরি করেছিল। তবে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান না হওয়ায় নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় দেশটি আবারও আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবিক সহায়তা সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, বারবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার কারণে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ ক্রমেই চরম অনিশ্চয়তা ও সংকটের মধ্যে পড়ছে। সহিংসতা থেকে পালিয়ে যাওয়া অনেক পরিবার সঙ্গে করে সামান্য কিছু জিনিসপত্র ছাড়া আর কিছুই নিতে পারছে না। দীর্ঘদিনের যুদ্ধের ক্ষত না শুকাতেই নতুন করে বাস্তুচ্যুতির এই ঢেউ দেশটির মানবিক পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে।