NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬ | ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
বাংলাদেশে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের গণগ্রেপ্তার, মানবাধিকার নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ ঢাকা-রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত ‘ইউ টেররিস্ট’, নিউইয়র্কে তোপের মুখে ড. ইউনূস সদস্য দেশে হামলা হলে সব ধ্বংস করে দেওয়া হবে: ন্যাটো প্রধান ভিনিসিয়ুসের লাল কার্ড ঘিরে বিতর্ক, ১৮ মাস আগের ঘটনা কেন আবার আলোচনায় এবার ইমরান খানের বিরুদ্ধে মামলা পুলিশের জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে প্রতিহত করার দাবি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ এলএনজি-এলপিজি সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-আলজেরিয়ার আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের বৈঠক বাংলাদেশসহ ৩১ মুসলিম দেশের পাইলটদের ওপর ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞায় এয়ার ফ্রান্সের সায়
Logo
logo

প্রথম ভাঁজ করা আইফোন উন্মোচনে অ্যাপলকে স্যামসাংয়ের খোঁচা


খবর   প্রকাশিত:  ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৯ এএম

প্রথম ভাঁজ করা আইফোন উন্মোচনে অ্যাপলকে স্যামসাংয়ের খোঁচা

অবশেষে ভাঁজ করা স্মার্টফোনের বাজারে প্রবেশ করেছে অ্যাপল। বুধবার প্রথমবারের মতো ভাঁজ করা আইফোন উন্মোচন করেছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।

নতুন ফোনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘আইফোন ডুও’। তবে অ্যাপলের এই নতুন যাত্রাকে স্বাগত জানায়নি দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাং। বরং নতুন ফোন উন্মোচনের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অ্যাপলকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানটি।

 

ভাঁজ করা ফোনের বাজারে স্যামসাংসহ অ্যানড্রয়েড নির্মাতারা অ্যাপলের চেয়ে বেশ কয়েক বছর এগিয়ে আছে।

ফলে অ্যাপল যখন এই বাজারে প্রবেশ করল, তখন স্যামসাং তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। বুধবার অ্যাপলের নতুন আইফোন উন্মোচন অনুষ্ঠানের সময় স্যামসাংয়ের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দল একের পর এক পোস্ট দেয়। এসব পোস্টে সরাসরি অ্যাপলের নতুন ফোন নিয়ে ঠাট্টা করা হয়। 

 

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া স্যামসাংয়ের একটি পোস্ট সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে।

সেখানে প্রতিষ্ঠানটি লিখেছে, ‘আমাদের ফেলে রাখা জিনিস গরম করা শেষ হলে আমাদের জানাবেন।’ আরেকটি পোস্টে স্যামসাং লিখেছে, ‘এটা খুব পরিচিত মনে হচ্ছে। এটা কি সিমস গেমের নতুন পর্ব?’ আরেক পোস্টে বলা হয়, ‘আমাদের অপেক্ষায় রাখছেন? ঠিক আছে। আমরা এখানে তিনভাবে ভাঁজ করে বসে থাকব।’ এই পোস্টের মাধ্যমে স্যামসাং বোঝাতে চেয়েছে, অ্যাপল যেখানে প্রথমবার ভাঁজ করা ফোন বাজারে এনেছে, সেখানে অ্যানড্রয়েড নির্মাতারা ইতিমধ্যে আরো উন্নত ভাঁজযোগ্য ফোন তৈরির দিকে এগিয়েছে।
বিশেষ করে তিন ভাঁজের পর্দার ফোনের দিকেও তারা ইঙ্গিত করেছে।

 

আরেকটি পোস্টে স্যামসাং লিখেছে, ‘আনুষঙ্গিক পণ্য? মনে হচ্ছে খাবার নেই, শুধু খাবারের সঙ্গে দেওয়ার জিনিস আছে। এবার বদলানোর সময়।’ অন্য একটি পোস্টে তারা লিখেছে, ‘এখন পর্যন্ত, সবই একই রকম।’ স্যামসাংয়ের এসব পোস্টের মূল বক্তব্য হলো- ভাঁজ করা ফোনের প্রযুক্তি অ্যাপলের জন্য নতুন হলেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রযুক্তি নিয়ে বহু বছর ধরে কাজ করছে। ভাঁজ করা ফোনের বাজারে স্যামসাংয়ের অভিজ্ঞতা অ্যাপলের তুলনায় অনেক বেশি। 

 

 

স্যামসাং ২০১৯ সালে প্রথম ‘গ্যালাক্সি ফোল্ড’ বাজারে আনে। এরপর গত সাত বছরে স্যামসাং, গুগল ও মটোরোলার মতো প্রতিষ্ঠান ভাঁজ করা ফোনের একাধিক নতুন মডেল বাজারে এনেছে। এই সময়ে ফোনগুলোর নকশা ও প্রযুক্তিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রথম দিকের ভাঁজ করা ফোনে পর্দায় ভাঁজের দাগ স্পষ্ট দেখা যেত। ফোন খোলা ও বন্ধ করার সময় কবজার স্থায়িত্ব নিয়েও সমস্যা ছিল। পরবর্তী মডেলগুলোতে এসব সমস্যা অনেকটাই কমানো হয়েছে। ফোনের ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও নির্মাতারা উন্নতি করেছে। ফলে ভাঁজ করা ফোন এখন আর শুধু নতুন ধরনের প্রযুক্তির প্রদর্শনী নয়। স্মার্টফোনের বাজারে এটি ধীরে ধীরে একটি আলাদা ও গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

প্রতিদ্বন্দ্বীর ব্যঙ্গের পরও অ্যাপল তাদের প্রথম ভাঁজ করা আইফোন নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। নতুন আইফোন ডুওর দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার। ফোনটিতে সম্পূর্ণ নতুন নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যাপলের দাবি, নতুন নকশা এবং ব্যবহারকারীর তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার ওপর জোর দেওয়ার কারণে ফোনটি প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে আলাদা হবে। ফোনটির দুই পাশ গোলাকার। ফোনটি খুললে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চি বা প্রায় ১৯ সেন্টিমিটার তির্যক মাপের বড় পর্দা পাওয়া যায়। এই পর্দা উল্লম্বভাবেও ব্যবহার করা যায়। ফোনটি ভাঁজ করে রাখলে সামনে একটি ছোট পর্দা দেখা যায়। ফলে ফোনটি পুরোপুরি না খুলেও সাধারণ স্মার্টফোনের মতো কিছু কাজ করা সম্ভব।

 

 

অ্যাপল জানিয়েছে, ফোনটি পুরোপুরি খোলা অবস্থায় তাদের তৈরি সবচেয়ে পাতলা আইফোন। তবে পাতলা হওয়ার দাবি থাকলেও চীনের কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের ভাঁজ করা ফোনের তুলনায় অ্যাপলের নতুন ফোনটি মোটা। ভাঁজ করা ফোনের বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে অ্যাপল এমন একটি প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় নামল, যেখানে স্যামসাংসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। অ্যাপলের সামনে এখন শুধু নতুন প্রযুক্তি দেখানোর চ্যালেঞ্জ নয়, দীর্ঘদিনের ব্যবহারকারীদের বোঝানোর চ্যালেঞ্জও রয়েছে- কেন তারা অন্য প্রতিষ্ঠানের ভাঁজ করা ফোন বাদ দিয়ে নতুন আইফোন কিনবেন। অন্যদিকে স্যামসাংয়ের ব্যঙ্গাত্মক পোস্টগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, নতুন বাজারে অ্যাপলকে সহজে জায়গা ছেড়ে দিতে রাজি নয় প্রতিষ্ঠানটি।