Shibbir Ahmed প্রকাশিত: ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:০৯ এএম

নয়াদিল্লি: ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উদীয়মান প্রযুক্তিতে সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে কোয়াড শেরপাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগের স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের ডেপুটি সেক্রেটারি এলি লসন, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র ডেপুটি মিনিস্টার হিরোয়ুকি নামাজু এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত ও ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর অংশ নেন।
অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র—এই চার দেশের সমন্বয়ে গঠিত কোয়াডের শেরপাদের এ বৈঠকটি গত ২৬ মে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত হলো। মে মাসের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগগুলো এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা করেন শেরপারা।
বৈঠকে কোয়াডের চলমান বিভিন্ন উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে চার দেশের মধ্যে বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রতি চার দেশের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বৈঠকে কোয়াড সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্র বিশেষ গুরুত্ব পায়। এর মধ্যে ছিল সামুদ্রিক ও আন্তঃদেশীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তি এবং মানবিক সহায়তা ও জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা।
এ ছাড়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট নিয়েও চার দেশের প্রতিনিধিরা মতবিনিময় করেন। বৈঠকে কোয়াডের কার্যক্রমকে আরও সুনির্দিষ্ট, বাস্তবমুখী ও ফলপ্রসূ উদ্যোগে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। শেরপারা মনে করেন, পারস্পরিক সমন্বয়ের পাশাপাশি এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন, যার বাস্তব সুফল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও মানবিক পরিস্থিতিতে প্রতিফলিত হতে পারে।
বৈঠক শেষে চার দেশের প্রতিনিধিরা পরবর্তী কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে নিয়মিত যোগাযোগ ও পরামর্শ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। কোয়াডের সাম্প্রতিক কার্যক্রমে নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা, প্রযুক্তি, সামুদ্রিক সহযোগিতা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মানবিক সহায়তার মতো বাস্তবভিত্তিক বিষয় ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। নয়াদিল্লির সর্বশেষ শেরপা বৈঠকও সেই সহযোগিতাকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।