NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ | ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
কিউবার বিরুদ্ধে ফের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, টার্গেটে কাস্ত্রো পরিবারের সদস্য ও ব্যাংক-জ্বালানি খাত মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ে বৈঠক ডিসেম্বর পর্যন্ত মার্কিন সরকার সচল রাখতে অর্থ বিল সই করলেন ট্রাম্প ইরানকে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি: ফের হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে দেওয়া সামরিক সহায়তার অর্থ ইউরোপকে ফেরত দিতে হবে: ট্রাম্প ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলেই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব : আইরিন খান আমি রাজপরিবারের হলে মেগান আর প্রিন্স হ্যারিকে ফিরিয়ে নিতাম না : ট্রাম্প শান্তিচুক্তির অগ্রগতি হলে পুতিনের সঙ্গে আবার বৈঠকে বসতে চান ট্রাম্প বিশেষ সম্মানে মেসির ক্যারিয়ার উদযাপন করবে আর্জেন্টিনা সব ধরনের প্রচার থেকে আড়ালে যাচ্ছেন আরিয়ানা গ্রান্ডে
Logo
logo

ইরানকে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি: ফের হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র


Shibbir Ahmed   প্রকাশিত:  ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম

ইরানকে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি: ফের হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন করে ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান পাল্টা হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। সম্প্রতি ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও কৌশলগত অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়েছে। এর পাল্টা জবাবে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা ও অঞ্চলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

‘আরও কঠোর হামলা হতে পারে’
ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাব দেয়, তাহলে ওয়াশিংটন আরও শক্তিশালী সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত। ট্রাম্প এর আগে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান পাল্টা হামলা চালালে পরবর্তী মার্কিন আঘাত হবে আরও কঠোর ও উচ্চমাত্রার। এমনকি তিনি ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মতো কঠোর ভাষাও ব্যবহার করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এসব বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে মূল উত্তেজনা
বর্তমান সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করেছে এবং সমুদ্রপথে মাইন স্থাপনের চেষ্টা করেছে।
 
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের সামরিক স্থাপনা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, নৌযান, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং সমুদ্রপথে মাইন স্থাপনের সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যিক জাহাজ ও সেখানে কর্মরত বেসামরিক নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য সচল রাখা।
 
পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে জানিয়েছে, হামলার জন্য ওয়াশিংটনকে কঠিন মূল্য দিতে হবে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারবে না। বরং এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কা
সংঘাত তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি আবাসিক এলাকায় মার্কিন হামলায় বিয়ের অনুষ্ঠানে থাকা মানুষ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলায় নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তাদের সামরিক বাহিনী বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না এবং সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার ক্ষেত্রেই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবে যুদ্ধের বিস্তার ঘটলে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুলসংখ্যক সেনা ও সামরিক সম্পদ মোতায়েন রয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এই অঞ্চলে কর্মরত হাজার হাজার মার্কিন সেনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এতে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা নিজস্ব সামরিক ঘাঁটি, নৌপথ এবং মিত্রদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি বাজারে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এরই মধ্যে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার চাপ দেখা দিয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হিসেবে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীলতা অনেক বেশি। ফলে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপ, এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তেলের দাম বেড়ে গেলে পরিবহন ব্যয়, পণ্য উৎপাদন এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচও বাড়তে পারে। এতে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কূটনীতির পথ কি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে?
সামরিক সংঘাত বাড়লেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—এমনটা বলা যাচ্ছে না। তবে দুই পক্ষের বক্তব্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং কঠোর অবস্থান স্পষ্ট। ট্রাম্প একদিকে ইরানকে কঠোরভাবে সতর্ক করছেন, অন্যদিকে আলোচনার সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করছেন না। 
তবে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। তেহরানের অবস্থান হলো—হুমকি ও সামরিক চাপের মাধ্যমে কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সংঘাত শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বহু সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এমন বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীরও আঞ্চলিক উপস্থিতি রয়েছে। ফলে সংঘাত আরও বাড়লে ইরাক, জর্ডান, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের নতুন করে বিস্তার আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলো এবং জাতিসংঘের জন্য পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল। একদিকে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ—সবকিছুই এই সংঘাতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত উত্তেজনা কমানো না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সামনে কী?
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে আরও বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয় কি না এবং নিলে ওয়াশিংটন কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে সামরিক তৎপরতা বাড়ায় কিংবা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নতুন হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান আসতে পারে—ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য অন্তত সে ইঙ্গিতই দিচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে বড় আকারের হামলা চালায়, তাহলে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া এবং সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তার আরও বাড়তে পারে।

ফলে আগামী কয়েক দিন মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক শক্তির পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর বড় ধরনের অভিঘাত পড়তে পারে।