রংপুরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চারজনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের হাতে আটক দুই ব্যক্তিকে নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে আটকদের একজনের গায়ের জামা এবং রংপুরেরই একজন পুলিশ কর্মকর্তার গায়ের জামা একই ধরনের—এমন ছবি অনেকেই শেয়ার করে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে মন্তব্য করেছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। রংপুর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘ওই জামা রংপুরে আমিসহ আরো দুই শ লোকের আছে। আমার শার্ট আমারই আছে। এ নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
’
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুজন রবিবারই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া রবিবার রাতেই নিহতদের সৎকার সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর পরিবার।
পুলিশের দাবি, তারা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন অনেকটা গুছিয়ে এনেছেন। খুব শিগগির আদালতে চার্জশিট দেবে পুলিশ।
রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী যে মামলা করেছেন—এই মামলা দায়েরের আগেই মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
রবিবার রাত থেকেই সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে—আটকদের একজনের গায়ের জামা একজন পুলিশ কর্মকর্তার গায়ের জামা হুবহু একই হওয়ার ঘটনা। ওই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন রংপুরের ডিবি সনাতন চক্রবর্তী।
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেছেন, ‘এটি কাকতালীয়। ওই জামা রংপুরে আমিসহ আরো দুই শ জনের আছে। একই ধরনের শার্ট আরো অনেকেরই থাকতে পারে। এটিকে সামনে এনে ঘটনা ভিন্নভাবে প্রচারের চেষ্টা চলছে।’
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারা যখন ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন তখন তিনি ওই জামাটিই পরিহিত ছিলেন। তখন স্থানীয় কিছু নিউজ পোর্টাল যে লাইভ করছিল তাতেও সনাতন চক্রবর্তীর গায়ে ওই শার্ট দেখা গেছে। পরে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে যখন বাইরে আনা হয় তখন সিদ্ধার্থ দাসের গায়েও ওই একই ধরনের শার্ট দেখা গেছে।
সনাতন চক্রবর্তী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘আমরা যখন তাদের আটক করে আমাদের অফিসে এনে বসাই তখনও সিদ্ধার্থ দাসের গায়ে ওই শার্টটিই ছিল।’
রংপুর ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আটক দুজনই আরো বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে। সব মিলিয়ে ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে ও প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা দ্রুত চার্জশিট দিয়ে দেব।
এদিকে নিহতদের ময়নাতদন্ত করা রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস আজ স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রাথমিকভাবে তাদের কাছে মনে হয়েছে যে গণপতি চক্রবর্তীসহ চার জনকে শ্বাসরোধ করেই হত্যা করা হয়েছে।