Shibbir Ahmed প্রকাশিত: ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম

শিব্বীর আহমেদ, নিউ ইয়র্ক: বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করেছে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত। আদালত বলেছে, এই নীতি জারি করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
বিচারক জেনেট ভার্গাসের রায়ে বলা হয়, শুধু কোনো ব্যক্তির জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করার এই নীতি ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মামলাটি দায়ের করেছিলেন অভিবাসী অধিকার সংগঠন, ক্ষতিগ্রস্ত ভিসা আবেদনকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের একটি দল।
জানুয়ারিতে স্থগিত হয় ভিসা প্রদান
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২১ জানুয়ারি থেকে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করেছিল। তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ ছিল। পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যা ছিল, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। সেই যুক্তিতে অভিবাসী ভিসা প্রদানের নীতিমালা পুনর্বিবেচনার কথা বলা হয়েছিল।
বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রায়
বাংলাদেশ ওই ৭৫ দেশের তালিকায় থাকায় আদালতের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে রায়ের পর বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ভিসা প্রক্রিয়া কীভাবে পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে নজর থাকবে। পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ করে।
সব ধরনের ভিসা নয়
আদালতের এই রায়কে সাধারণ ভিসা নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জানুয়ারির নীতিটি অভিবাসী ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। অর্থাৎ পর্যটন, ব্যবসা বা শিক্ষার্থীসহ অ-অভিবাসী ভিসা এই নির্দিষ্ট স্থগিতাদেশের আওতায় ছিল না। আদালতের রায়ের পর এখন মূল প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না এবং পররাষ্ট্র দপ্তর ৭৫ দেশের স্থগিত থাকা অভিবাসী ভিসা আবেদনগুলো কীভাবে পুনরায় প্রক্রিয়া করবে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রায়ের বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।