NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬ | ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত নীতি বাতিল ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়া থেকে সামরিক সম্পদ সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, উদ্বিগ্ন মিত্ররা ট্রাম্প–কিম বৈঠকের ইঙ্গিত, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ আজ নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে যে তথ্য দিলেন ট্রাম্প ‘আইকনিক ১০’ নিয়েই পেশাদার ফুটবলে ফিরলেন রোনালদিনহো, কবে মাঠে নামছেন? ‘জয়পুরেই ঐশ্বরিয়া আর আমার প্রেম শুরু’—অভিষেক বচ্চন নতুন অবৈধ ইসরায়েলি বসতি নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ
Logo
logo

যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী সুরক্ষা নিয়ে বড় সংকট, বাড়ছে নির্বাসনের আশঙ্কা


Shibbir Ahmed   প্রকাশিত:  ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী সুরক্ষা নিয়ে বড় সংকট, বাড়ছে নির্বাসনের আশঙ্কা

শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি: যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের দেওয়া সাময়িক সুরক্ষা সুবিধা নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। আদালতের একের পর এক সিদ্ধান্তে এই সুরক্ষা বাতিলের বিরুদ্ধে থাকা স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ায় হাজার হাজার অভিবাসী এখন নির্বাসনের ঝুঁকিতে পড়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের নিজ দেশে যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অন্য কোনো গুরুতর পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করার অনুমতি দিয়ে থাকে। এই ব্যবস্থাই সাময়িক সুরক্ষা সুবিধা (TPS) হিসেবে পরিচিত।

তবে বর্তমান প্রশাসন বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য দেওয়া এই সুবিধা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার পর দেশজুড়ে শুরু হয় আইনি লড়াই। অভিবাসী অধিকার সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আদালতের দ্বারস্থ হন। কয়েকটি মামলায় আদালত সাময়িকভাবে সুরক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সেই পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।

হাইতিয়ান নাগরিকদের জন্য বড় ধাক্কা

হাইতির প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার নাগরিক এই সাময়িক সুরক্ষার আওতায় ছিলেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর তাদের সুরক্ষা বাতিলের পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। এর ফলে এসব মানুষ শুধু যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমতিই হারানোর ঝুঁকিতে পড়েননি, বরং দেশ থেকে বহিষ্কারের আশঙ্কার মধ্যেও পড়েছেন। গত ২১ আগস্ট হাইতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় বহিষ্কারকারী বিমান পৌঁছানোর ঘটনা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে।

আরও কয়েকটি দেশের নাগরিক ঝুঁকিতে

হাইতির পাশাপাশি সিরিয়া, দক্ষিণ সুদান, মিয়ানমার, সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ার নাগরিকদের সাময়িক সুরক্ষা নিয়েও আদালতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। সোমালিয়ার নাগরিকদের সুরক্ষা বাতিল ঠেকাতে থাকা আদালতের স্থগিতাদেশ সম্প্রতি তুলে নেওয়া হয়েছে। ইথিওপিয়ার কয়েক হাজার নাগরিকের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত এসেছে।

ফলে এসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকার জন্য শুধু এই সাময়িক সুরক্ষার ওপর নির্ভর করছেন, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ

এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তের ফলে সাময়িক সুরক্ষা বাতিলের মতো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নিম্ন আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়েছে। ফলে সুরক্ষা বাতিল ঠেকাতে আদালতের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি স্থগিতাদেশ পাওয়া আগের তুলনায় কঠিন হয়ে পড়েছে।

সুরক্ষা শেষ হলেই কি সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার?

না। কোনো ব্যক্তির সাময়িক সুরক্ষা শেষ হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাকে পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে। কারও অন্য কোনো বৈধ অভিবাসন অনুমতি থাকতে পারে। কারও আশ্রয়ের আবেদন বিচারাধীন থাকতে পারে। আবার কেউ পরিবারভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের আবেদনের প্রক্রিয়ায় থাকতে পারেন।

কিন্তু যাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার একমাত্র আইনি ভিত্তি ছিল এই সাময়িক সুরক্ষা, তাদের জন্য পরিস্থিতি অনেক বেশি কঠিন। সুরক্ষা শেষ হয়ে গেলে তারা বহিষ্কারের প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন।

অভিবাসীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের নিজেদের অভিবাসন অবস্থা, কাজের অনুমতির মেয়াদ, চলমান আবেদন এবং বহিষ্কারের কোনো আদেশ রয়েছে কি না—এসব বিষয় দ্রুত যাচাই করা জরুরি। কারণ একই দেশের দুইজন নাগরিকের আইনি পরিস্থিতি এক নাও হতে পারে। একজনের অন্য কোনো বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ থাকতে পারে, অন্যজনের নাও থাকতে পারে।

সাময়িক সুরক্ষা বাতিলের এই ধারাবাহিক সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হাজার হাজার অভিবাসীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। আদালতের স্থগিতাদেশ একের পর এক উঠে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে

বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক সুরক্ষা সুবিধা চালু নেই। তাই সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সরাসরি বাংলাদেশিদের ওপর প্রযোজ্য নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশি অভিবাসীদের ওপরও এর পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে।