NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬ | ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল গঠনের চেষ্টা, সতর্ক করল জাতিসংঘ দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ইসিতে জমা পড়েছে তিন মনোনয়নিপত্র বিএনপির মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ মির্জা ফখরুলের, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা দিবস পালন: বিশ্বমঞ্চে সার্বভৌমত্বের জোরালো স্বীকৃতি দাবি বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্বারোপ হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ছেন ক্যারোলিন লেভিট তুরস্কে ট্রাম্পের অবস্থান জানত ইরান, ছিল বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা প্রথম সেশনেই ৪ উইকেট শিকার বাংলাদেশের, চাপে অস্ট্রেলিয়া
Logo
logo

বিরল সূর্যগ্রহণে মুগ্ধ যুক্তরাজ্য-ইউরোপ


খবর   প্রকাশিত:  ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০৮ এএম

বিরল সূর্যগ্রহণে মুগ্ধ যুক্তরাজ্য-ইউরোপ

যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নাটকীয় সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হয়েছে। বিরল এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে জড়ো হন হাজারো মানুষ।

অনেকের মতে, এক প্রজন্মে একবার দেখা যায়- এমন অভিজ্ঞতা ছিল এটি।

 

যুক্তরাজ্য থেকে দেখা গেছে আংশিক সূর্যগ্রহণ। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার কিছু পর এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তখন দেশটির বেশির ভাগ এলাকা থেকে দেখা যায়, চাঁদ সূর্যের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ ঢেকে ফেলেছে।

কর্নওয়ালে সূর্যের সর্বোচ্চ ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত ঢাকা পড়ে। অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের কিছু এলাকায় দেখা গেছে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। সেখানে কয়েক মিনিটের জন্য সূর্যের আলো প্রায় পুরোপুরি ঢেকে যায় এবং চারপাশে অন্ধকার নেমে আসে। সূর্যগ্রহণ দেখতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন বিখ্যাত স্থানে বড় ভিড় হয়।

গ্রহণের সময় অনেকেই বিস্ময়ে উল্লাস করেন। জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীরা বলেন, এমন ঘটনা মহাবিশ্বের বিশালতা ও বৈচিত্র্যের কথা আবারও মনে করিয়ে দেয়।

 


 

পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথ শুরু হয় রাশিয়ার সাইবেরিয়ার উত্তর প্রান্ত থেকে। এরপর তা আর্কটিক মহাসাগরের ওপর দিয়ে এগিয়ে আইসল্যান্ডে পৌঁছায়। সেখান থেকে দক্ষিণ দিকে এগিয়ে যুক্তরাজ্যের ওপর দিয়ে যায়।

ফলে যুক্তরাজ্যের মানুষও গ্রহণের বড় একটি অংশ দেখার সুযোগ পান। উত্তর স্কটল্যান্ডে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে আংশিক সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে শুরু হয় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের কিছু আগে। প্রথম দিকে অনেক জায়গা থেকেই গ্রহণ স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছিল না। তবে যেসব এলাকায় আকাশ পরিষ্কার ছিল, সেখানকার মানুষ ধীরে ধীরে সূর্যের ওপর চাঁদের ছায়া পড়তে দেখেন। মধ্য ও দক্ষিণ ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের বেশির ভাগ এলাকায় আকাশ পরিষ্কার থাকায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চাঁদকে ধীরে ধীরে সূর্যের সামনে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। উত্তর ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে আকাশ ছিল তুলনামূলক বেশি মেঘলা। তবু এসব এলাকার বিভিন্ন বিখ্যাত স্থানেও মানুষের ভিড় ছিল।

 

সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য বিশেষ চশমা ব্যবহার করেন অনেকে। তবে গ্রহণের আগে এসব চশমার ব্যাপক সংকট দেখা দেয়। চশমার দোকানের পাশাপাশি হার্ডওয়্যারের দোকান ও বেকারিতেও এগুলো বিক্রি হয়ে যায়। যারা চশমা পাননি, তাদের কেউ কেউ নিরাপদভাবে আংশিক গ্রহণ দেখার জন্য ছাঁকনি, খাবারের বাক্স ও কাগজের টুকরা ব্যবহার করেন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছিল, সরাসরি খালি চোখে সূর্যের দিকে না তাকাতে। কারণ সূর্যের তীব্র আলো চোখের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।


 

সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে। তখন চাঁদ সূর্যের আলো পুরোপুরি বা আংশিকভাবে আটকে দেয়। ফলে পৃথিবীর কোনো কোনো অংশে চাঁদের ছায়া পড়ে। চাঁদ যত সামনে এগিয়ে যায়, সূর্যের আরো বেশি অংশ ঢেকে যায়। এতে দিনের আলো ধীরে ধীরে কমে আসে। অনেকটা ঘরের আলোর উজ্জ্বলতা কমিয়ে দেওয়ার মতোই পরিস্থিতি তৈরি হয়। যুক্তরাজ্য থেকে দেখা গ্রহণটি ছিল আংশিক। কারণ ওই সময় সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী পুরোপুরি এক সরল রেখায় ছিল না। ফলে চাঁদ সূর্যের পুরো অংশ ঢাকতে পারেনি। ১৯৯৯ সালের পর যুক্তরাজ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে নাটকীয় সূর্যগ্রহণ। দেশটির বেশির ভাগ এলাকায় সূর্যের প্রায় ৯০ শতাংশ ঢাকা পড়ে।

স্পেনের কিছু এলাকায় মানুষ আরো বিরল দৃশ্য দেখার সুযোগ পান। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে, অর্থাৎ ব্রিটিশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়, সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী পুরোপুরি এক সরল রেখায় চলে আসে। তখন শুরু হয় পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। এই দৃশ্য দেখতে চিলি থেকে স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের লা কোরুনিয়ায় যান বিজ্ঞানী ইয়াসমিন ক্যাট্রিচে। তিনি বলেন, পূর্ণগ্রহণের সময় সবাই আনন্দে চিৎকার করছিলেন এবং দেখা দৃশ্য নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিলেন। তার ভাষায়, সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তার মন্তব্য, ‘মহাবিশ্ব অসাধারণ।’ পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ পুরো সূর্যকে ঢেকে ফেলে। তখন সূর্যের চারপাশে একটি ম্লান আলোর বলয় দেখা যায়। এটি সূর্যের করোনা। করোনা হলো সূর্যের বাইরের অত্যন্ত উত্তপ্ত গ্যাসের স্তর, যা মহাকাশে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। কিছু দর্শক সূর্যের পেছন থেকে গোলাপি রঙের ছোট ছোট গ্যাসের লুপও দেখতে পারেন। এগুলোকে বলা হয় প্রমিনেন্স। সূর্যের অস্থির চৌম্বকক্ষেত্রের কারণে এসব গ্যাসের গঠন তৈরি হয়।  এরপর চাঁদ ধীরে ধীরে সূর্যের সামনে থেকে সরে যায়। আবার সূর্যের আলো দেখা দিতে শুরু করে। পূর্ণ সূর্যগ্রহণ সাধারণত খুব অল্প সময় স্থায়ী হয়। এই গ্রহণের পূর্ণ পর্যায়ও দুই মিনিটের কম সময় স্থায়ী হয়। তবে যারা এটি দেখেছেন, তাদের অনেকের কাছেই এটি জীবনের স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।


 

পৃথিবীর কোনো না কোনো জায়গা থেকে প্রায় ১৮ মাসে একবার পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো জায়গা থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা অনেক বেশি বিরল। একটি নির্দিষ্ট এলাকায় এমন ঘটনা গড়ে প্রায় ৪০০ বছরে একবার দেখা যেতে পারে। পূর্ণ সূর্যগ্রহণ সম্ভব হওয়ার পেছনেও রয়েছে একটি আশ্চর্য কাকতালীয় বিষয়। সূর্য পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে। সূর্য চাঁদের চেয়ে পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ গুণ দূরে। একই সময়ে সূর্যের ব্যাস চাঁদের চেয়ে প্রায় ৪০০ গুণ বড়। এই কারণে পৃথিবী থেকে আকাশের দিকে তাকালে সূর্য ও চাঁদকে প্রায় একই আকারের মনে হয়। ফলে চাঁদ সূর্যের সামনে এসে সেটিকে পুরোপুরি ঢেকে দিতে পারে। চাঁদ যদি সামান্য ছোট হতো, অথবা পৃথিবী থেকে তার কক্ষপথ কিছুটা দূরে হতো, তাহলে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা সম্ভব হতো না।

২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য বিশ্বজুড়ে ভ্রমণকারীদের জন্য বিশেষ সময় আসছে। এই সময়ে তারা তিনটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পাবেন। তবে এসব গ্রহণের কোনোটিই যুক্তরাজ্য থেকে পূর্ণ অবস্থায় দেখা যাবে না। যুক্তরাজ্যে ২০২৭ সালে সর্বোচ্চ যে সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে, সেটিও হবে আংশিক। ওই সময় দেশটির কিছু এলাকায় সূর্যের প্রায় ৪৫ শতাংশ ঢাকা পড়তে পারে। আজকের গ্রহণের চেয়ে বেশি অংশ ঢাকা পড়া সূর্যগ্রহণ দেখতে যুক্তরাজ্যবাসীকে আরো কয়েক দশক অপেক্ষা করতে হবে। ২০৮১ সালে দেশটি থেকে এমন একটি গ্রহণ দেখা যাবে, যখন সূর্যের সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ ঢাকা পড়বে। আর যুক্তরাজ্য থেকে পরবর্তী পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২০৯০ সালে।