ইরানের হুমকির কারণে গত মাসে তুরস্ক থেকে দেশে ফিরতে নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানের বদলে পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটাই এত দিন সবাই জানতেন।
খবর প্রকাশিত: ১২ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০৮ এএম

ইরানের হুমকির কারণে গত মাসে তুরস্ক থেকে দেশে ফিরতে নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানের বদলে পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটাই এত দিন সবাই জানতেন।
সোমবার ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সবার সামনে পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ার পর অতিগোপনে তাকে বিমানবন্দরে একটি খাবার সরবরাহকারী ভ্যানে করে ছোট সামরিক বিমানে স্থানান্তর করা হয়। তবে এ খবর কাউকে জানানো হয়নি।
এয়ার ফোর্স ওয়ানের পুরনো বিমানের স্টাফ এবং ট্রাম্পের সফরসঙ্গী সাংবাদিকরা জানতেন, তারা প্রেসিডেন্টের সঙ্গেই ভ্রমণ করছেন।
ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে গত ৭ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় যান ট্রাম্প। যাওয়ার সময় তিনি কাতার রাজ পরিবারের দেওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানেই ভ্রমণ করেন। সেটিই ছিল সংস্কার করা এয়ার ফোর্স ওয়ানের নতুন বিমানটির প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
পরদিন তিনি এয়ার ফোর্স ওয়ানের একটি পুরোনো বিমানে চড়ে আঙ্কারা ছেড়েছিলেন বলে দাবি করেছিল ওয়াশিংটন। তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইরানের দিক থেকে ট্রাম্পের প্রতি হুমকির খবর প্রকাশিত হয়।
দাবি করা হয়েছিল তুরস্কের প্রতিবেশী দেশ ইরানের হুমকির কারণেই ট্রাম্প বিমান বদল করেছিলেন। নতুন বিমানটির নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছিল নানা শঙ্কা।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন সত্যি হলে ট্রাম্প নিজেই তখন সবাইকে ধোঁকা দিয়েছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছিলেন, তিনি আঙ্কারা থেকে ব্রিটেনের র্যাফ মিল্ডেনহল ঘাঁটিতে যাওয়ার জন্য পুরনো দিনের স্মৃতির খাতিরে হালকা নীল রঙের এয়ার ফোর্স ওয়ানের পুরনো বিমানটি ব্যবহার করবেন। আর নতুন বিমানটি একই ঘাঁটিতে থামবে, যাতে সেখানে দায়িত্বরত মার্কিন সেনাসদস্যরা বিমানটি ঘুরে দেখতে পারেন।
এখন জানা যাচ্ছে আরো চমকপ্রদ খবর। শুধু বিমান নয়, একেবারে এয়ারফোর্স ওয়ানই ছেড়েছিলেন ট্রাম্প। পুরনো এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে সবার চোখের আড়ালে ট্রাম্পকে একটি খাবার সরবরাহকারী ভ্যানে করে বিমানবাহিনীর ‘সি-৩২এ’ মডেলের একটি ছোট বিমানে তোলা হয়। সেটিতে করেই যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প। অপারেশনের সঙ্গে পরিচিত একজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং প্রেসিডেন্টের ভ্রমণের বিষয়ে অবগত অন্য এক ব্যক্তির সূত্রে ওয়াশিংটন পোস্ট এ খবর জানিয়েছে।
পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে সি-৩২এ বিমানটি ব্রিটেনের উদ্দেশ্যে উড়াল দেয় এবং রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে সেখানে পৌঁছায়। এর কয়েক মিনিট পরই পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের বিমানটি গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে সেখানে অবতরণ করে।
তৃতীয় একটি বিমানে গোপন ফ্লাইটের এই তথ্য ফাঁসের পর হোয়াইট হাউসের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলে, জনসংযোগ পরিচালক স্টিভ চেংয়ের একটি বিবৃতি দেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, কাতার থেকে উপহার পাওয়া জেটটিতে উচ্চ-পর্যায়ের নিরাপত্তা প্রটোকল যুক্ত করা হয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট এবং তার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যেমনটা বলেছেন, আমেরিকার এমন অনেক শত্রু রয়েছে যারা তার ওপর নজর রাখছে এবং সেই হুমকিগুলো মোকাবেলা করতে আমরা আমাদের হাতের সব উপায় ব্যবহার করছি।’ তবে এই বিষয়ে পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করেনি।
হোয়াইট হাউস স্বীকার না করলেও এয়ার ফোর্স ওয়ানের নতুন বিমানটির নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন কার্যত প্রমাণিত। কারণ আঙ্কারা থেকে ফেরার পরই নতুন বিমানটি আবার সংস্কারের জন্য পাঠানো হয়েছে।