Shibbir Ahmed প্রকাশিত: ৩০ মে, ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

নিউ ইয়র্ক: বাংলাদেশে ঈদুল আজহা একদিন পরে হলেও, যুক্তরাষ্ট্রে বুধবারই ঈদ উদযাপন করছেন প্রবাসী বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের মুসলিমরা। এর মধ্যে স্থানীয় সময় সকালে বাংলাদেশিদের ব্যবস্থাপনায় দুই শতাধিকসহ মোট সাড়ে ৩ হাজারের বেশি ঈদ জামাতে ছিল নামাজ পড়তে আসা মুসলমানদের উপচে পড়া ভিড়। তবে অধিকাংশ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় খোলা মাঠ অথবা হোটেলের বলরুমে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তরুণদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। প্রতিটি জামাতে মুসলিম জাহানের শান্তি-সমৃদ্ধির জন্যে দোয়া প্রার্থনা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বাণিজ্যিক শহর নিউ ইয়র্কে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার, আল আমিন মসজিদ, বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার, বায়তুল জান্নাহ মসজিদ, আল আমান মসজিদ, পার্কটেস্টার জামে মসজিদ, স্প্রিংফিল্ড গার্ডেন মসজিদ, শাহজালাল জামে মসজিদ ও জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ স্ট্রিটে। কোনো কোনো মসজিদে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ একত্রে ঈদ জামাত আদায় করেন। ঈদ জামাত উপলক্ষে এদিন নগর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। নিউ ইয়র্ক সিটির চারশ বছরের ইতিহাসে প্রথম মুসলমান মেয়র জোহরান মামদানিও এদিন ব্রঙ্কসে বাংলাদেশিদের পরিচালিত একটি মসজিদে ঈদ জামাতে অংশ নেন। জামাত শেষে অনেকে নির্দিষ্ট এলাকায় যান পশু কোরবানি করতে।
এদিকে নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, কানেটিকাট, ম্যাসেচুসেটস, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, টেক্সাস, মিশিগান, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, মিনেসোটা, ওয়াশিংটন, রোড আইল্যান্ড, ক্যানসাস, ক্যান্টাকিসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এবার লক্ষাধিক বাংলাদেশি পশু কোরবানি দেওয়ার তথ্য মিলেছে। এর বাইরে নিউ ইয়র্ক অঞ্চলের আরো লাখ খানেক প্রবাসী কোরবানির অর্ডার দিয়েছেন কাছের গ্রোসারি অথবা সুপার মার্কেটে।
তবে টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ওয়াশিংটন, আরিজোনা, মিশিগান, পেনসিলভানিয়াসহ বেশ কটি স্থানে বাংলাদেশের মতই প্রকাশ্য মাঠে অনেককে পশু কোরবানি করতে দেখা যায়। বেশ কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমান আমেরিকানরা একত্রে ঈদ উদযাপন করায় স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত থেকে ছুটি পাওয়া যাচ্ছে সহজে। তবে নিউ ইয়র্ক সিটির সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঈদের দিনকে ছুটি ঘোষণার বিধি কার্যকর হয়েছে ২০১৫ সালে।এছাড়া ম্যারিল্যান্ড, ম্যাসেচুসেটস, মিশিগান, মিনেসোটা, ভার্জিনিয়াসহ বেশ কটি রাজ্যে ঈদের দিন মুসলমান শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাসহ কর্মচারীরা চাইলেই ছুটি পান।