খবর প্রকাশিত: ২৮ মে, ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

ইদ্রিছ আলী, অস্ট্রেলিয়া থেকে//
অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া দ্রুত বদলে যায়। সপ্তাহের মাঝামাঝি হঠাৎ করে আকাশ মেঘলা হয়ে টানা বৃষ্টি শুরু হয়।
বিজ্ঞাপন
অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা, সিডনি, মেলবোর্নসহ দেশজুড়ে বসবাসরত মুসলিম জাতি বৃহস্পতিবার মেঘলা ও বৃষ্টিস্নাত পরিবেশেই অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হয়। ঈদের জামাত খোলা মাঠ ও শহরের বিভিন্ন মসজিদ, স্কুল এবং কমিউনিটি হলে আয়োজন করা হয়েছে।
মেঘলা আকাশে শীতল সকালে দেশটিতে নামাজ আদায় করতে সকাল থেকে মুসল্লিরা ছুটে আসেন ফয়জান-ই-মদিনা ইসলামিক সেন্টার লাকেম্বা, প্যারি পার্কে, ব্যাংকস টাউন, এবান, লিডকম, লাকেম্বার দারুল উলুম কেন্দ্রীয় মসজিদ, রকডেল মসজিদ, লিভারপুল, মিন্টু, গ্রানভিল, গ্রিন-ভ্যালি, ম্যাসকট, মাউন্ট ডুরিথ, কাম্পবেলটাউন, গ্লেনফিল্ড, ম্যাকুরিফিল্ড, ইঙ্গেলবার্ন, সেফটন, লিউমিয়াহ, ইসলামিক সেন্টার, কনভেনশন হল ও মসজিদগুলোতে ঈদের নামাজ আদায় করেন বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা।
এরপর পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-স্বজনকে নিয়ে ঈদ উদযাপন করেছেন বেশিরভাগ বাংলাদেশি। সিডনি লাকেম্বা এলাকার দাওয়াত ইসলামী অস্ট্রেলিয়ার ফয়জান-ই-মদিনা ইসলামিক সেন্টারে ঈদের বড় একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
আমাদের দেশের মতো অস্ট্রেলিয়ায় নামাজের জন্য আলাদা কোনো ঈদগাহ নেই। তাই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মসজিদ, মাসাল্লা, পার্ক, কমিউনিটি হল ও স্কুলে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
ঈদুল আযহার মূল আনুষ্ঠানিকতা পশু কোরবানির নিয়ম অস্ট্রেলিয়ায় ভিন্ন। প্রবাসীদের বেশিরভাগই দেশে পরিবারের মাধ্যমে কোরবানি সম্পন্ন করে থাকেন। তবে যারা অস্ট্রেলিয়ায় নিজে কোরবানি দিয়েছেন, তারা শহর থেকে দূরে অথবা নির্দিষ্ট ফার্মে গিয়ে ঈদের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করেছেন। আবার বেশিরভাগ বাংলাদেশি ঈদের আগে হালাল মাংসের দোকানে কোরবানির ফরমাশ দিয়েছিলেন। দোকান মালিকের নিজেদের ফার্মে কোরবানি সম্পন্ন করে মাংস বাড়িতে পৌঁছে দেন ঈদের দিন বা পরদিন।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১০ লাখ মুসলমান বসবাস করেন। ঈদের নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। জামাত শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আনন্দ ভাগাভাগি করেন সর্বস্তরের মানুষ।