Shibbir Ahmed প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম

নিউ ইয়র্ক: নিউ ইয়র্কে লেখক, সাহিত্যিক, কবি, প্রকাশক ও বইপ্রেমীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে শুরু হয়েছে চার দিনের ‘নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা’। ‘যতবই ততপ্রাণ’ স্লোগানে আয়োজিত এবারের ৩৫তম বইমেলায় অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ, কলকাতা ও প্রবাসের কবি-লেখক-প্রকাশকরা। শনিবার নিউ ইয়র্কের কুইন্সে অবস্থিত জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টার মিলনায়তনে বইমেলার উদ্বোধন করেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা, অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষক রেহমান সোবহান-কে আজীবন সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়। এ সময় তার পাশে ছিলেন অধ্যাপক রওনক জাহান।

সোমবার পর্যন্ত চলবে এ বইমেলার নানা আয়োজন। শতাধিক লেখক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক বিভিন্ন পর্বে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। পাশাপাশি থাকবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও অপসংস্কৃতি প্রতিরোধে আলাপ-আলোচনা। নবীন ও প্রবীণদের সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে এবারের মেলার কার্যক্রম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্তভাবে তুলে ধরতে বাংলা সাহিত্য, ইতিহাস ও ঐতিহ্যভিত্তিক গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশ ও বাঙালি সংস্কৃতির ধারা পৌঁছে দিতে অনুবাদ গ্রন্থের বিকল্প নেই। মেলার আয়োজক মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং মেলা আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত লেখক, কবি ও পাঠকদের স্বাগত জানান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বাংলা বই অনুবাদের মাধ্যমে বিশ্বপরিমণ্ডলে বাঙালি সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দেওয়া। তবে প্রত্যাশিত মানের অনুবাদ এখনো গড়ে ওঠেনি। নিউ ইয়র্কের এই বইমেলার সঙ্গে সম্পৃক্তদের সে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অন্যদিকে রেহমান সোবহান বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে বিতর্কের অবসান প্রয়োজন। ইতিহাসকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে কোনো জাতির অগ্রযাত্রা টেকসই হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ঐতিহ্যবাহী ঢোলের ধ্বনিতে। ঢুলি মোবারক হোসেন-এর পরিবেশনার পর মালবিকা চ্যাটার্জির নির্দেশনায় ‘সংগীত সাধনা’র শিক্ষার্থীরা সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন ‘আজি দখিন দুয়ার খোলা’ ও ‘বাউলা কে বানাইলো রে’। এ সময় আবহসংগীত ‘আগুনের পরশমণি’র সঙ্গে স্মারকচিত্রে মোমবাতি প্রজ্বলন করেন লেখক-সাহিত্যিক আবদুন নূর, ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন ‘নৃত্যাঞ্জলি’র শিল্পীরা। চন্দ্রা ব্যানার্জির পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় তারা ‘আলোকের এই ঝরণাধারায়’, ‘হৃদয় আমার নাচেরে’ ও ‘বাগিচায় বুলবুলি তুই’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন। এবারের বইমেলার উদ্বোধনী আয়োজনে বাংলাদেশ, কলকাতা ও প্রবাসের ৩৫ জন কবি, লেখক ও প্রকাশককে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন ফরিদুর রেজা সাগর, সুবোধ সরকার, সাদাত হোসাইন, কৌশিক সেনসহ আরও অনেকে।

পরে ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বর্তমান বাংলাদেশ এবং ভবিষ্যতের করণীয়’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন রেহমান সোবহান ও রওনক জাহান। তারা বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ইতিহাসের সঠিক ধারায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নজরুল ইসলাম। এ সময় তিনি নিজের লেখা ‘স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থটি উপহার দেন রেহমান সোবহান ও রওনক জাহান দম্পতিকে।