NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, মে ২২, ২০২৬ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
বাংলাদেশ-মরক্কো প্রথম বি টু বি প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন এক টাকার টফি চকোলেট এখন কূটনীতির প্রতীক যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা করলে ‘আরও অনেক চমক’ দেখাবে ইরান : আরাগচি প্রিমিয়ার লিগে সর্বকনিষ্ঠ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল উইঙ্গার, নাম উঠল গিনেস বুকে শাকিবের ‘রকস্টার’ টিজারে মিথিলা রহস্য প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে শিশুদের উচ্ছ্বাস জি-৭ সম্মেলনে যোগ দেবেন ট্রাম্প, গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয় ‘দেবদাস’-এর গানের শুটিংয়ে টানা ১৩ ঘণ্টা নেচেছিলেন অন্তঃসত্ত্বা মাধুরী! মাথা উঁচু করে দ্রুত ফিরব: আনন্দবাজারকে শেখ হাসিনা বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় আরও শক্তিশালী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ব্যবস্থার আহ্বান বাংলাদেশের
Logo
logo

নিউইয়র্কের আদালতে অভিবাসী গ্রেপ্তারে সীমাবদ্ধতা আরোপ


খবর   প্রকাশিত:  ২০ মে, ২০২৬, ০৯:০৫ এএম

নিউইয়র্কের আদালতে অভিবাসী গ্রেপ্তারে সীমাবদ্ধতা আরোপ

নিউইয়র্কেরআদালতে অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। ফেডারেল বিচারক পি. কেভিন ক্যাসটেল  এই আদেশ দেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে ম্যানহাটনের অভিবাসন আদালতগুলোতে আইসের আগের মতো ব্যাপক গ্রেপ্তার কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বিচারক তার রায়ে বলেন, আদালতের আগের সিদ্ধান্তে একটি ভুল তথ্যের ভিত্তিতে অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, যা সংশোধন করা জরুরি। তিনি জানান, আদালত ভবনের ভেতরে বা নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় অভিবাসীদের গ্রেপ্তার নীতি এখন আর আগের মতো নির্বিঘ্নে চালু রাখা যাবে না, কারণ এটি ন্যায়বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত বছর, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দমন নীতির অংশ হিসেবে আইসিই আদালতে উপস্থিত হওয়া অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করতে শুরু করে। নিয়মিত শুনানিতে আসা মানুষদের হঠাৎ আটক করা এবং অনেক সময় পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাগুলো ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে নিউইয়র্কের ২৬ ফেডারেল প্লাজা ভবনে এ ধরনের দৃশ্য নিয়মিত ঘটতে থাকে, যা মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় রাজনীতিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

এই নীতির বিরুদ্ধে ডোর এবং আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার নামে দুটি অভিবাসী অধিকার সংগঠন মামলা দায়ের করে। তাদের অভিযোগ ছিল, আদালতে গ্রেপ্তারের ভয়ের কারণে অভিবাসীরা নিজেদের মামলার শুনানিতে অংশ নিতে ভয় পাচ্ছেন, যা বিচার ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। তারা আরও দাবি করে, আদালতে গ্রেপ্তার দীর্ঘদিনের প্রচলিত নীতির ব্যত্যয় এবং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

সরকার পক্ষ শুরুতে এই গ্রেপ্তার নীতিকে বৈধ বলে দাবি করলেও পরবর্তীতে প্রসিকিউটর অফিস একটি চিঠির মাধ্যমে জানায়, নীতিগত ব্যাখ্যায় একটি “প্রশাসনিক ভুল” হয়েছিল। এই স্বীকারোক্তির পর মামলাটি নতুন মোড় নেয় এবং বিচারক আগের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করেন।

নতুন রায়ের ফলে এখন থেকে নিউইয়র্কের ২৬ ফেডারেল প্লাজা, ২০১ ভারিক স্ট্রিট এবং ২৯০ ব্রডওয়ের অভিবাসন আদালতে আইসের গ্রেপ্তার কার্যক্রম কঠোরভাবে সীমিত থাকবে। তবে এই সিদ্ধান্ত পুরো যুক্তরাষ্ট্রে প্রযোজ্য নয়, বরং নির্দিষ্ট এলাকাতেই কার্যকর হবে।

মানবাধিকার আইনজীবীরা এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। নিউইয়র্ক সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকলে অভিবাসীরা আদালতে গিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় ছাড়াই নিজেদের মামলা পরিচালনা করতে পারবেন। তবে তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, সরকার যদি রায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে বিষয়টি আবারও আইনি জটিলতায় যেতে পারে।

অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলেছে, অবৈধ অভিবাসীদের আটক করা আইনসঙ্গত এবং প্রয়োজনীয়। তাদের মতে, আইন লঙ্ঘনকারীদের যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই আটক করা সরকারের দায়িত্বের অংশ।

বিচারক জানিয়েছেন, এই রায় চূড়ান্ত নয় এবং মামলার পূর্ণ শুনানি এখনও বাকি রয়েছে। সরকারের পূর্বের অবস্থান পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিও পরবর্তী পর্যায়ে নির্ধারণ করা হবে।

এই রায়কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এটিকে স্বস্তির সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে প্রশাসন বলছে আইন প্রয়োগে কোনো শিথিলতা গ্রহণযোগ্য নয়।