NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬ | ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বিশ্বমঞ্চে শাড়ির প্রচার: ‘শাড়ি গোজ গ্লোবাল’ ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়ছেন প্রেস সেক্রেটারি কারোলিন লেভিট জাতিসংঘের মহাসচিব পদের দৌড়ে দ্বিতীয় দফায় এগিয়ে রদ্রিগেস-বিরকেট প্রধানমন্ত্রীর হাতে যোগদানপত্র তুলে দিলেন জহির উদ্দিন স্বপন গ্রেপ্তার ২ তরুণের পরিবারেরও প্রশ্ন—‘দুজন মিলে কি এত বড় ঘটনা ঘটাতে পারে?’ নতুন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সিজেপির, আজ বৈঠক প্রিন্সেস ডায়ানার জীবন নিয়ে বই লিখছেন ভাই চার্লস স্পেন্সার বক্স অফিসে দারুণ আয় দিয়ে শুরু হলো নতুন ‘ইনসিডিয়াস’ রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধিদল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের পাইলট প্রকল্প শুরুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
Logo
logo

ইরানের শীর্ষ ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র !


খবর   প্রকাশিত:  ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:০১ এএম

ইরানের শীর্ষ ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র !

যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে বিবেচিত ইরানের ‘শীর্ষ পর্যায়ের’ কর্মকর্তাদের ও সামরিক কমান্ডারদের ওপর নির্ভুল হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে মিডল ইস্ট আইকে (এমইই) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এমইইকে সোমবার জানানো হয়, এসব হামলা চলতি সপ্তাহেই শুরু হতে পারে, যদিও সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

প্রশাসনের ভেতরের আলোচনাকে ‘অগোছালো’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে।

 

বিক্ষোভকারীদের ওপর নৃশংস দমন-পীড়নের অজুহাতে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় এক মাস ধরেই ইরানে হামলার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে।

প্রথমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখল’ করার আহ্বান জানালেও পরে সুর নরম করে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে’। এই উত্তেজনা প্রশমনের সিদ্ধান্ত আসে এমন এক সময়ে, যখন সৌদি আরব, কাতার ও ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলো হামলার বিরুদ্ধে জোরালো তদবির করছিল।

কিছু প্রতিবেদনে ট্রাম্পের বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ইতি টানার ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরা হলেও, সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা এমইইকে বলেন, এটি মূলত একটি সাময়িক বিরতি নির্দেশ করে।

 

ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও ট্রাম্প একইভাবে উত্তেজনা বাড়ানো-কমানোর কৌশল নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি দেশটিতে হামলার নির্দেশ দেন, যার পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়।

এক সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসনের ভেতরের আলোচনার ভিত্তিতে তাদের ধারণা, তেহরানে ‘শাসন পরিবর্তন’ চাপিয়ে দেওয়ার চিন্তা থেকে ট্রাম্প সরে আসেননি।

স্টিমসন সেন্টারের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির প্রধান র‌্যান্ডা স্লিম আগেই এমইইকে বলেছিলেন, ট্রাম্পের উত্তেজনা প্রশমন ‘অস্থায়ী’।

 

জানুয়ারির শুরুতে যে অবস্থান ছিল, তার তুলনায় এখন ইরানে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে আরো শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

এক সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থার মজুদ পুনরায় পূরণে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ‘মোট সরবরাহ’ বেড়েছে। তবে ইউক্রেনে সরবরাহ চালু রাখার কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে।

এই সামরিক সমাবেশ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সোমবার জানিয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী দক্ষিণ চীন সাগর পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে।

 

ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোস থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে বলেন, ‘আমরা ইরানের দিকে বড় বাহিনী পাঠাচ্ছি। আমি চাই না কিছু ঘটুক, কিন্তু আমরা তাদের খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি।’

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান, এফ/এ–১৮ জেট এবং ইএ–১৮জি গ্রাউলার ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান রয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার জাহাজ।

ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকারগুলো জানিয়েছে, জর্দানের মুআফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র এফ–১৫ যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রনও মোতায়েন করেছে।

এই মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রকে বিকল্প পথ দিচ্ছে, কারণ উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য তাদের আকাশসীমা বা স্থাপনা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন এবং আরব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই নিষেধাজ্ঞা ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে কার্যকর রয়েছে।

রয়টার্স এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তেহরান সতর্ক করেছে, যদি ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় তাদের দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তেহরানের ঘনিষ্ঠ ভাষ্যকারেরা প্রকাশ্যেও এই হুঁশিয়ারি জোরালো করেছেন।

পটভূমি আলোচনায় সৌদি আরব, ওমান, কাতার ও তুরস্ক—সবাই যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার বিরোধিতা করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্দান হামলাকে সমর্থন করে।