ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখরভাবে আয়োজন করতে সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখরভাবে আয়োজন করতে হবে।’
গতকাল বুধবার মিরপুর সেনানিবাসে ডিএসসিএসসি কমপ্লেক্সে সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) কোর্স ২০২৫-এর সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন নির্বাচনের সময়।
’ তিনি আরো বলেন, ‘ডিএসসিএসসি কোর্স ২০২৫-এর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে আমি আনন্দিত। সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’
গত বছরের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অতীত শাসনব্যবস্থার অবসান হয়েছে। দেশের মানুষের মনে নতুন আশা ও আকাঙ্ক্ষার উদ্রেক হয়েছে। এই আশা শুধু বাংলাদেশে নয়, এটি বিশ্বব্যাপী একটি আকাঙ্ক্ষা।
’
২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। জনগণের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করেছে। বাংলাদেশ একটি ভাগ্যবান দেশ। সব বাহিনী তাদের নেতৃত্বের অধীনে জনগণের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।’
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস ডিএসসিএসসি কোর্সে অংশগ্রহণকারী বিদেশি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, দেশের একতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থনের কারণে দ্রুত সংকট উত্তরণ এবং জাতিকে স্থিতিশীল করা সম্ভব হয়েছে। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এই একতার কারণে আমরা দেশের সব আশা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে পেরেছি। কারণ সশস্ত্র বাহিনী জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে।’
আইএসপিআরের তথ্য মতে, ডিএসসিএসসি কোর্স-২০২৫-এ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭০ জন, নৌবাহিনীর ৪৫ জন এবং বিমানবাহিনীর ৩৬ জন কর্মকর্তা গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশের তিনজন কর্মকর্তা এবং চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, জর্দান, কেনিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, লাইবেরিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মালি, নেপাল, নাইজেরিয়া, ওমান, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, সিয়েরা লিওন, শ্রীলঙ্কা, তানজানিয়া, তুরস্ক ও উগান্ডা থেকে আগত ৫৮ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। সব মিলিয়ে এ বছর মোট ৩১১ জন প্রশিক্ষণার্থী গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন।
অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, মন্ত্রিপরিষদসচিব, তিন বাহিনীর প্রধানরা, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা (চাকরিরত ও অবসরপ্রাপ্ত), বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও অধ্যাপকরা এবং বিভিন্ন দেশের মিলিটারি বা ডিফেন্স অ্যাটাচি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।