NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
রবিবার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি যুদ্ধের মধ্যে প্রথম জুমায় খামেনির জন্য ইরানিদের শোক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে তারেক রহমান ও আমিরাতের প্রেসিডেন্টের ফোনালাপ আকাশসীমা আংশিক চালু, সীমিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে এমিরেটস ইরানে হামলা না করার সিদ্ধান্তে অটল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, ক্ষুব্ধ ট্রাম্প মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রীকে সরিয়ে দিলেন ট্রাম্প এবার তিশার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলেন সামিয়া অথৈ যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিকভাবে ইরান সংকট সমাধানের আহ্বান বাংলাদেশের খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা স্থগিত করল ইরান আর্জেন্টিনা-স্পেন ‘ফিনালিসিমা’ স্থানান্তর হতে পারে ইউরোপে
Logo
logo

চীনের বাঁধ প্রকল্প নিয়ে ভারত-বাংলাদেশে উদ্বেগ কেন?


খবর   প্রকাশিত:  ২৩ জুলাই, ২০২৫, ১০:০৭ এএম

চীনের বাঁধ প্রকল্প নিয়ে ভারত-বাংলাদেশে উদ্বেগ কেন?

চীন তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে, যা নির্মাণে খরচ হবে প্রায় ১৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চীনের দাবি, এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প, যা প্রতি বছর যুক্তরাজ্যের চাহিদার সমান বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে।

তবে এই বিশাল প্রকল্প নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও বাংলাদেশে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ, কারণ এই বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে ইয়ারলুং ঝাংবো নদীর ওপর, যা ভারত ও বাংলাদেশে প্রবেশ করে ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত। এই নদী উভয় দেশের কোটি মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

 

চীনের প্রকল্পটি কী?

এই প্রকল্পের অধীনে তিব্বতের মালভূমি থেকে নিচে নেমে আসা নদীতে পাঁচটি ড্যাম তৈরি করা হবে। প্রথম বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে ২০৩০ সালের প্রথমার্ধে। তবে প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি চীন।

 

প্রতিবেশীদের উদ্বেগ কেন?

চীনের গোপনীয়তা ও তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এই দুই দেশ ব্রহ্মপুত্র নদীর পানির ওপর নির্ভর করে কৃষিকাজ, জলবিদ্যুৎ ও খাবার পানির জন্য।

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আগেই সতর্ক করেছেন যে এই বাঁধের কারণে রাজ্যের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত ৮০ শতাংশ নদীশুকিয়ে যেতে পারে এবং নিচের দিকের আসাম রাজ্যে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে।

 

এছাড়া নদীর সঙ্গে বয়ে আসা পলিমাটির পরিমাণও কমে যেতে পারে, যা নদীতীরবর্তী অঞ্চলের কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চীনের অবস্থান কী?

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইয়ারলুং ঝাংবো নদীতে হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প নির্মাণ চীনের সার্বভৌম অধিকারভুক্ত। তারা দাবি করেছে, এই প্রকল্প হবে ক্লিন এনার্জির উৎস এবং বন্যা রোধেও সহায়ক হবে। চীন আরও বলেছে, তারা নিচের দিকের দেশগুলোর সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও তথ্য বিনিময়ে সমন্বয় করছে।

 

তবে ভারতের পররাষ্ট্র বা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

ভারতের পানি সরবরাহ কি হুমকির মুখে পড়বে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঁধটির প্রভাব হয়তো অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, কারণ ব্রহ্মপুত্রের পানির বড় অংশ আসে হিমালয়ের দক্ষিণে বর্ষার পানি থেকে। যা ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে প্রবাহিত হয়। তাছাড়া, চীনের এই প্রকল্পটি রান অব দ্য রিভার ধরনের ড্যাম — অর্থাৎ এতে পানি জমিয়ে রাখা হবে না, বরং স্বাভাবিকভাবে নদী দিয়ে প্রবাহিত হবে।

 

ভারত নিজেও ইয়ারলুং ঝাংবো (ভারতে যার নাম সিয়াং নদী) নদীতে দুটি বড় বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে একটি হবে ভারতের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।