NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬ | ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
বাংলাদেশ-জাপান চারটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি অনুদান চুক্তি সই উন্নত দেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে বেড়েই চলছে প্রাণহানি নির্বাচনে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর ‘কারচুপির’ অভিযোগ অর্থ আত্মসাতের মামলায় গায়ক ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার ‘ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাব’, তারেক রহমানকে নিয়ে এক্স পোস্টে যা বললেন তাকাইচি নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্পের নতুন কৌশল ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর ভারতকে চাপ দিতে বলল পোল্যান্ড ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে, চলছে নানা জল্পনা ‘কিং’-এর পোস্টারে প্রেমিক রূপে শাহরুখ
Logo
logo

শেখ হাসিনার গন্তব্য এখনও অনিশ্চিত


খবর   প্রকাশিত:  ১০ আগস্ট, ২০২৪, ০৮:৩৩ এএম

শেখ হাসিনার গন্তব্য এখনও অনিশ্চিত

ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার গন্তব্য এখনও অনিশ্চিত। তাঁর পছন্দের পশ্চিমা দেশগুলোও তাঁকে আশ্রয় দিতে চাচ্ছে না। শেখ হাসিনাকে সুরক্ষা দেওয়া এখন ভারতের মর্যাদার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিল্লি এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত গন্তব্য।

তৃতীয় কোনো দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার আগে আরও কিছুদিন ভারতেই থাকতে হবে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে। তাঁর সম্ভাব্য সাময়িক আশ্রয় হতে পারে বেলারুশ। ভারত চাচ্ছে, রাশিয়ার আশপাশের দেশগুলোতে শেখ হাসিনার চূড়ান্ত গন্তব্য নিশ্চিত করতে।

নাম না প্রকাশের শর্তে ভারতের একটি সূত্র জানায়, ভারত সরকার শেখ হাসিনার চূড়ান্ত গন্তব্য নিশ্চিতে কাজ করছে। কিন্তু পশ্চিমা কোনো দেশ তাঁকে আশ্রয় দিতে রাজি নয়। ফলে রাশিয়ার আশপাশের দেশগুলোতে তাঁর জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যে দেশগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) খুব একটা তোয়াক্কা করে না। যদি কোথাও তাঁর জায়গা না হয়, তবে ভারতেই থাকবেন তিনি। দক্ষিণ আমেরিকা বা আফ্রিকার দেশগুলোতেও সম্ভাব্য আশ্রয়ের জায়গা খোঁজা হচ্ছে।

শেখ হাসিনাকে সুরক্ষা দেওয়াটা এখন ভারতের মর্যাদার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে জানিয়ে ভারতের ওই সূত্র জানায়, এখন যদি ভারত শেখ হাসিনাকে সুরক্ষা না দিতে পারে, তবে এ অঞ্চলে নিজের আধিপত্য হারাবে। আশপাশের দেশগুলো আর ভারতের ওপর ভরসা করতে পারবে না।

সূত্র জানায়, গত সোমবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর পর শেখ হাসিনার জন্য যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের ব্যবস্থার চেষ্টা করা হয়। তবে সে চেষ্টা এখনও সফল হয়নি। ফলে যুক্তরাজ্য না হলে ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ডে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তবে এ দেশটিও তাঁকে আশ্রয় দিতে রাজি নয়। 
ভারতের পত্রিকা দি হিন্দু জানায়, শেখ হাসিনাকে এত কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছে, তিনি কোন দেশে আশ্রয় নেবেন, তা নিয়ে কাজ করার সময় পাননি। তবে তাঁর পরিবার ও নিকট আত্মীয়রা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফিনল্যান্ড ও ভারতে রয়েছেন। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং সৌদি আরবেও তিনি আশ্রয় নিতে পারেন।

যুক্তরাজ্যে শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা, দেশটির মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকসহ তাদের পরিবারের বসবাস। শেখ রেহানার ছেলে রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির স্ত্রী পেপে সিদ্দিক ফিনল্যান্ডের নাগরিক। তিনি ঢাকার জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থায় (আইওএম) কর্মরত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁকে ব্যাংককে বদলি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। আর জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আঞ্চলিক কার্যালয়ে শেখ হাসিনার মেয়ে সায়েমা ওয়াজেদ পুতুল আঞ্চলিক পরিচালক পদে ভারতে রয়েছেন।

এরই মধ্যে শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা স্থগিত হওয়ার খবর ভারতের গণমাধ্যমে এসেছে। এ বিষয়ে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র জানান, মার্কিন আইন অনুযায়ী ভিসা-সংক্রান্ত তথ্য গোপনীয়। এ কারণে কোনো ব্যক্তির এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত আমরা প্রকাশ করি না।

নাম না প্রকাশের শর্তে ভারতের একটি সূত্র জানায়, শেখ হাসিনাকে আরও কিছুদিন দিল্লিতেই থাকতে হবে। বর্তমানে তিনি দিল্লির এয়ার বেজ হিন্ডোন বিমানবন্দরে নিরাপদে রয়েছেন। সূত্রটি জানায়, বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার আবেদন ফিরিয়ে দিচ্ছে। পরিবার ও নিকট আত্মীয়রা যে দেশগুলোতে বসবাস করছেন, সেখানেই প্রথমে যেতে চেয়েছিলেন সাবেক সরকারপ্রধান। প্রথমে যুক্তরাজ্য যেতে চাইলে, তারা মানা করে দিলে ফিনল্যান্ড যেতে চেয়েছেন। তবে ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অবস্থানকে অনুসরণ করছে। ফলে রাশিয়ার আশপাশের কোনো দেশে তাঁর শেষ গন্তব্য হতে পারে। তবে তাঁর আগে কিছুদিন বেলারুশে যেতে হতে পারে। এ বিষয়ে কাজ করছে ভারত।