পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ঢাকা বোট ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট বেনজীর আহমেদের সঙ্গে আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে দাবি করেছেন ঢাকা বোট ক্লাবের সাবেক সভাপতি নাসির মাহমুদ। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তিনি।

 

ঢাকা বোট ক্লাবের রিভারভিউ লাউন্সে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে নাসির মাহমুদ বলেন, ‘পরীমনি-কাণ্ডের পর আমি তিন বছর বোট ক্লাবে আসতে পারিনি। আমি যেভাবে হেনস্তা হয়েছি, সেভাবে হেনস্তা হওয়ার কথা ছিল না। পরীমনি এই ক্লাবের সদস্য ছিলেন না, তিনি কারো গেস্ট হয়ে ক্লাবে এসেছিলেন। ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী, গেস্ট আনতে হলে অনুমতি লাগে, কিন্তু পরীমনির কোনো অনুমতি ছিল না।

আমি প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।’

 

এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘বেনজীরের ক্ষমতার প্রভাব সম্পর্কে-বেনজীর তিন বছর আমাকে ক্লাবে আসতে দেয়নি। যখনই আমি ক্লাবে যেতাম, আমাকে আয়নাঘরে নিয়ে যাওয়া হতো। তার বাহিনী ছিল, সে অনেক কিছু করতে পারত।

আমি শুধু একজন সাধারণ ব্যবসায়ী, তার সঙ্গে ফাইট দেওয়ার মতো অবস্থা আমার ছিল না। তবে আমি হাল ছাড়িনি, আইনি লড়াই লড়ে গেছি। আমি তিনবার বেনজীরের নামে লিগাল নোটিশ দিয়েছিলাম।’

 

সাবেক আইজিপি বেনজীর অবৈধভাবে বিনা ভোটে বোট ক্লাবের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন বলেও এসময় তথ্য দেন নাসির মাহমুদ। তবে সবকিছু ছাপিয়ে এখন আবারও আলোচনায় চিত্রনায়িকা পরীমনি।

 

প্রসঙ্গত, পরীমনির এই বোট ক্লাব কাণ্ডে জড়িয়েছিলেন আরেক পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েন। অভিনেত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের জেরে চাকরি হারিয়ে বসতে হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এডিসি গোলাম সাকলায়েনকে। পরীমনির বাসায় নিয়মিত রাত্রিযাপন ও স্ত্রীর অবর্তমানে সাকলায়েন রাজারবাগে নিজ বাসায় অভিনেত্রীকে নিয়ে গিয়ে ১৭ ঘণ্টা অবস্থানের প্রমাণ পেয়েছিল পুলিশ। পরীমনির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক চলাকালে সাকলায়েন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা ডিবি গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার এডিসির দায়িত্বে ছিলেন। তখন এই অভিনেত্রীর মামলার তদন্ত করছিলেন তিনি।