সিয়েরা লিওনে বৃহস্পতিবার ইরানি দূতাবাসের একটি পোস্ট ঘিরে অনলাইনে বিতর্ক শুরু হয়েছে। পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতীকী চরিত্র ‘আঙ্কেল স্যাম’কে ইরানে আসার চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।

পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘হাবিবি (আঙ্কেল স্যাম), ইরানে এসো!’

 

পোস্টের সঙ্গে ৩৫ সেকেন্ডের একটি অ্যানিমেটেড ভিডিও রয়েছে। এতে হরমুজ প্রণালির ত্রিমাত্রিক মানচিত্র দেখা যায়। সেই মানচিত্রে মাইনসুইপার খেলা হচ্ছে। রবিবার হরমুজ প্রণালির একটি দ্বীপে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোর পর এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরান ওই রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ব্যবহার করে জলপথে মাইন ছোড়ার পরিকল্পনা করছিল। গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের পথে থাকা সমুদ্র মাইন সরানোর কাজ শেষ করেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো জাহাজ বা নৌকা নতুন করে মাইন পেতে দিলে সেটি ধ্বংস করা হবে। এর জবাবে ইরান জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানায়, তারা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। 

 

 

চলতি মাসে দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও অঞ্চলজুড়ে হামলা চালায়। এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র ইরান যদি এই অত্যন্ত ন্যায্য হামলার জবাব দেয়, তাহলে তাদের আরো কঠোর ও বড় মাত্রায় আঘাত করা হবে। তবে সেটিই সবচেয়ে বড় হামলা হবে না। আরো বড় হামলা অপেক্ষা করছে। সেটি শেষ হলে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের খুব সামান্যই অবশিষ্ট থাকবে!’ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের ‘আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার ব্যবস্থা, সামুদ্রিক সম্পদ ও স্থাপনা, মাইন পাতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

 

তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। কেন্দ্রীয় কমান্ডের মুখপাত্র টিমোথি হকিন্স বলেন, ‘ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম থেকে আসা এই খবরগুলোর বিষয়ে আমরা অবগত। মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনো বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর এর বিপরীত কাজ করে।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ ছয় মাস পেরিয়েছে। তেহরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটিই ট্রাম্পের ঘোষিত প্রধান লক্ষ্য।