শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি: যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমানোর উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার আরও ৯টি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন চুক্তি ঘোষণা করেছেন।

নতুন চুক্তির ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশভিত্তিক ওষুধের মূল্য নির্ধারণ কর্মসূচি (Most-Favored-Nation Drug Pricing)-এ অংশ নেওয়া ওষুধ কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬টিতে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এসব চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ডভিত্তিক ওষুধের বাজারের প্রায় ৮৯ শতাংশ এসেছে।

নতুন চুক্তিতে যুক্ত হওয়া নয়টি প্রতিষ্ঠান হলো—অ্যালকন (Alcon), অ্যাস্টেলাস ফার্মা (Astellas Pharma), বিওয়ান মেডিসিনস (BeOne Medicines), ব্রিজবায়ো (BridgeBio), সিএসএল (CSL), কিয়োয়া কিরিন (Kyowa Kirin), সান ফার্মা (Sun Pharma), টেভা ফার্মাসিউটিক্যালস (Teva Pharmaceuticals) এবং ইউসিবি (UCB)।

এই কর্মসূচির আওতায় কোম্পানিগুলো অন্যান্য উন্নত দেশে তুলনামূলক কম দামে যে নির্দিষ্ট ওষুধ বিক্রি করে, যুক্তরাষ্ট্রেও সেই দামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। নতুন চুক্তিগুলোর আওতায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির জন্য নির্দিষ্ট ওষুধের দাম কমানোর ব্যবস্থা থাকবে।

নতুন চুক্তিতে বিভিন্ন গুরুতর ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে হিমোফিলিয়া, পারকিনসন রোগ, ম্যাকুলার অবক্ষয়, চোখের গ্লুকোমা, যকৃতের রোগ, ত্বকের বিভিন্ন রোগ এবং ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ উৎপাদনে ১৯.৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

ওষুধের দাম কমানোর পাশাপাশি নতুন চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন নয়টি কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ উৎপাদন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে মোট কমপক্ষে ১৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কয়েকটি কোম্পানি সরকারের কৌশলগত সক্রিয় ওষুধ উপাদান মজুত (Strategic Active Pharmaceutical Ingredients Reserve)-এ ওষুধ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ সক্রিয় উপাদান সরবরাহ করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ সরবরাহব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে।

অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের দাম

অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম বেশি—এই যুক্তিতে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের রোগীরা অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য উন্নত দেশের রোগীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি অর্থ দিয়ে ওষুধ কিনে থাকেন।

সোমবারের ঘোষণা আগের চুক্তিগুলোর ধারাবাহিকতা। এর আগে ফাইজার (Pfizer), এলি লিলি (Eli Lilly), অ্যামজেন (Amgen)সহ বেশ কয়েকটি বড় ওষুধ কোম্পানি ট্রাম্প প্রশাসনের এই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছিল। নতুন পর্যায়ে তুলনামূলক ছোট ও মাঝারি আকারের ওষুধ ও জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকেও কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

রোগীদের কতটা সুবিধা হবে?

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্পআরএক্স (TrumpRx) নামের ওষুধ-ছাড়ের ব্যবস্থার মাধ্যমে এরই মধ্যে রোগীদের ওষুধের খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন আরও দাবি করেছে, সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ কর্মসূচির ফলে আগামী ১০ বছরে বিপুল অর্থ সাশ্রয় হতে পারে। তবে এই সাশ্রয়ের হিসাব ট্রাম্প প্রশাসনের নিজস্ব পূর্বাভাস; এটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য নয়।

নতুন চুক্তির ঘোষণায় ওষুধের দাম কমানোর লক্ষ্য স্পষ্ট হলেও, কোন ওষুধের দাম কতটা কমবে এবং কখন থেকে কম দাম কার্যকর হবে—তা ওষুধভেদে আলাদা হবে। চুক্তিগুলোর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে মূল্যছাড় কীভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং কতজন রোগী এর সুবিধা পাচ্ছেন তার ওপর।

সোমবারের ঘোষণা ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় কমানোর প্রচেষ্টায় আরেকটি বড় পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রেসক্রিপশন ওষুধের দামও বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন চুক্তির মাধ্যমে আরও বেশি আমেরিকান তুলনামূলক কম দামে প্রয়োজনীয় প্রেসক্রিপশন ওষুধ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।