সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের একটি ক্যাফেতে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এক ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে নয়জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ২০ জন।

দেশের প্রধান আদালত চত্বরের কাছাকাছি অবস্থিত ওই ক্যাফেটিতে মূলত স্থানীয় আইনজীবীরা নিয়মিত যাতায়াত করতেন। সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-ইখবারিয়া নেটওয়ার্ক এই তথ্য নিশ্চিত করেছে

 

তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ওই ক্যাফেতে পৌঁছায় এবং তদন্তের জন্য পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে।

দামেস্কের গভর্নর মাহের ইদলিবী জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুব শিগগিরই এই হামলার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। বিস্ফোরক যন্ত্রটিকে সাধারণ মানের বলে উল্লেখ করে তিনি হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের পর বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তি মাটিতে পড়ে আছেন এবং পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের সাহায্য করছেন। পরে অ্যাম্বুলেন্স এসে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যায়।

 

সেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী জালাল আলজানানি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ভয়াবহ শব্দ শুনে আমি ক্যাফেটির দিকে ছুটে যাই। সেখানে মেঝেতে মানুষের লাশ পড়ে থাকতে দেখে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। ট্রাফিক পুলিশ আসার আগে পর্যন্ত আমরা সাধারণ মানুষরাই আহতদের নিজেদের গাড়িতে তুলে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। প্রায় সবার শরীর থেকেই রক্ত ঝরছিল।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এক আকস্মিক বিদ্রোহের মাধ্যমে আসাদ রাজবংশকে উৎখাত করে সিরিয়ার ক্ষমতা নেয় নতুন শাসকরা।

এরপর থেকেই রাজধানী ও এর আশপাশের নিরাপত্তা বজায় রাখতে চরমপন্থী ‘দায়েশ’ (আইএস) গোষ্ঠীর জঙ্গিদের ওপর কঠোর দমনপীড়ন চালাচ্ছে বর্তমান সরকার। সিরিয়ার বর্তমান রাষ্ট্রপতি আহমদ আল-শারা অতীতে আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন ‘হায়াত তাহরির আল শাম’-এর নেতৃত্বে ছিলেন। তবে ক্ষমতায় আসার পর তিনি দেশের সব স্তরের মানুষ, বিশেষ করে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার অঙ্গীকার করেছেন।

 

বর্তমানে আল-শারা চরমপন্থী গোষ্ঠী ও কুর্দি-নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কাছ থেকে দেশের বিশাল অংশের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে সরকারি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। তবে দেশকে পুরোপুরি স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে তিনি এখনো বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। যদিও নিরাপত্তা বাহিনী প্রায়ই আইএস আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বড় বড় হামলা নস্যাতের দাবি করে আসছে, তবুও ২০১৫ সালের জুলাইয়ে একটি গির্জায় আত্মঘাতী হামলা এবং বৃহস্পতিবারের এই বিস্ফোরণের মতো ঘটনাগুলো সাধারণ সিরীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।