মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা দিন দিন বেড়েই চলছে। যুদ্ধবিরতি নিয়ে দফায় দফায় প্রস্তাব এলেও ফলপ্রসূ হচ্ছে না শান্তি আলোচনা।

এ অবস্থার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে আবারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

 

তেহরান বলছে, ওয়াশিংটন যদি ফের ইরানে হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারির পর ইরানের পক্ষ থেকে এ প্রতিক্রিয়া এসেছে।

এদিকে ইরান বারবার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, নতুন কোনো হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে।

বুধবার ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, এবার তারা আরো দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুকেও নিশানা করতে পারে।

 

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হলে আঞ্চলিক যুদ্ধ এবার মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে যাবে।’

ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সর্বশেষ কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি তেহরানে পৌঁছেছেন। গত মাসে পাকিস্তানই বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে একমাত্র শান্তি আলোচনা আয়োজন করেছিল।

তখন থেকেই পাকিস্তান দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করে আসছে।

 

এদিকে ট্রাম্পের অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ স্থগিত করে যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার ছয় সপ্তাহ পরও যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব জমা দিয়েছে ইরান। তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে দেওয়া ইরানের বক্তব্যে এমন কিছু শর্ত পুনরায় উঠে এসেছে, যা এর আগেই ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দাবি, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা এবং অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি।

 

এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে নতুন করে বোমা হামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরো সময় দিতে শেষ মুহূর্তে সে সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন।