ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার বলেছেন, ভারত ও ইসরায়েল ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেছে। কৌশলগত সম্পর্ক আরো গভীর করার লক্ষ্যে দুই দিনের সফর শেষে তিনি এ কথা বলেন।
দেশের ভেতরে সমালোচনার মুখে পড়া এই সফরটি ২০১৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদির ইসরায়েল সফরের দ্বিতীয়টি।
জেরুজালেমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়ে মোদি বলেন, ‘বিশ্বে কোনো রূপেই সন্ত্রাসবাদের স্থান নেই—এ বিষয়ে ভারত ও ইসরায়েল একমত... আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এর বিরোধিতা করব।
তিনি আরো বলেন, ‘মানবতা কখনো সংঘাতের শিকার হওয়া উচিত নয়।’
এর একদিন আগে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়া মোদি প্রযুক্তি ও জ্বালানিসহ নানা ক্ষেত্রে ভারত-ইসরায়েল ভবিষ্যৎ সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যৌথ উন্নয়ন, যৌথ উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের পথে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাব।
তিনি আরো বলেন, ‘একই সঙ্গে আমরা বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি ও মহাকাশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেব।’
দুই নেতা সফরকালে বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে একাধিক উদ্যোগের ঘোষণা দেন।
তারা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি এবং সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সংযোগ সম্প্রসারণ—যার মধ্যে ভারতের ইউপিআই ব্যবস্থা ইসরায়েলের বাজারে চালুর বিষয়ও রয়েছে—এসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও উদ্ভাবন সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এই সফরকে শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত অংশীদারির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মোদির পাশে দাঁড়িয়ে বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহু বলেন, ‘ভবিষ্যৎ তাদেরই, যারা উদ্ভাবন করে; আর ইসরায়েল ও ভারত উদ্ভাবনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাচীন ও গর্বিত সভ্যতা, অতীত নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। তবে ভবিষ্যৎকে ধরতে আমরা সমানভাবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, আর আমরা একসঙ্গে তা আরো ভালোভাবে করতে পারি।’
দুই নেতার উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার শিক্ষা, ভূ-ভৌত অনুসন্ধান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে এক ডজনেরও বেশি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।


