ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাসীন দল নিয়ন্ত্রিত আইনসভা বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) একটি সীমিত সাধারণ ‘ক্ষমা বিল’ অনুমোদন করেছে। সরকার এটিকে রাজনৈতিক সংকট নিরসনের পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এটি শত শত রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এদিকে বন্দিদের মুক্তির দাবিতে তাদের পরিবারের সদস্যরা টানা পঞ্চম দিনের মতো অনশন ধর্মঘট পালন করছেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ডেলসি রদ্রিগেজ।
আইনসভা প্রধান জর্জ রদ্রিগেজের নেতৃত্বে পাস হওয়া এই বিলে ২০০২ সাল থেকে ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ক্ষমার আওতায় আনা হয়েছে। তবে ২০১৯ সালের সামরিক বিদ্রোহে জড়িতদের এই সুবিধা থেকে বাদ রাখা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই আইনের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছে। বিদেশে অবস্থানরত রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের ক্ষমা পেতে হলে সশরীরে ভেনেজুয়েলায় উপস্থিত হতে হবে, যা অনেকের জন্য গ্রেপ্তারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারাবন্দিদের বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পদ ফেরত বা সংবাদমাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো বিধান এই বিলে রাখা হয়নি। হত্যা, মাদক পাচার, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে দণ্ডিতরা এই ক্ষমার আওতায় পড়বেন না।
আইনি অধিকার গোষ্ঠী ফোরো পেনাল-এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট গঞ্জালো হিমিওব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, এই ক্ষমা বিল আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যাপক নয়। তবে কারাবন্দীদের মুক্তির লড়াই এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না।
বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতা নোরা ব্রাচো আইনটিকে নিখুঁত নয় বলে স্বীকার করলেও জানিয়েছেন, এটি অনেক ভেনেজুয়েলার দুর্ভোগ লাঘব করবে। অন্যদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল তারেক সাব আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই আইনের মাধ্যমে দেশে শতভাগ শান্তি ফিরে আসবে।
তথ্যমতে, গত এক বছরে সরকার প্রায় ৯০০ জনকে মুক্তি দিলেও ফোরো পেনালের হিসাবে এখনো কয়েকশ রাজনৈতিক বন্দী কারাগারে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।


