নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের (যুবরাজ্ঞী) বড় ছেলে মারিয়াস বোর্গ হোইবিকে ছুরি হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হোইবির বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার বিচার শুরুর ঠিক কয়েক দিন আগে নতুন এই অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অসলোতে স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার তার বিচার শুরুর কথা রয়েছে।
নরওয়ের পুলিশ মারিয়াস হোইবিকে চার সপ্তাহের জন্য রিমান্ডে পাঠিয়েছে।
আবারও অপরাধ করার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মারিয়াস বোর্গ হোইবির বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে চারটি ধর্ষণের মামলা, সাবেক সঙ্গীর ওপর পারিবারিক সহিংসতা এবং একাধিক নারীর অজান্তে ও অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে ভিডিও ধারণের অভিযোগ।
২৯ বছর বয়সী হোইবি নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-ম্যারিটের ছেলে এবং সিংহাসনের উত্তরসূরি ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সৎ ছেলে। মামলার বিচার মঙ্গলবার ওসলোতে শুরু হওয়ার কথা এবং তা প্রায় সাত সপ্তাহ চলবে। তবে হোইবি ধর্ষণসহ গুরুতর অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।
পুলিশ পুনরায় অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কায় তার জন্য চার সপ্তাহের কারাদণ্ডের আবেদন করেছে।
যখন ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিট নিজেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত নথির কারণে সমালোচনার মুখে তখনই হোইবির গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল। ওই নথিতে প্রায় এক হাজারবার তার নাম উল্লেখ রয়েছে। জানা গেছে, ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে–ম্যারিট ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে টানা তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন।
শনিবার এক বিবৃতিতে ক্রাউন প্রিন্সেস বলেন, ‘এই নথিগুলো আমার ভুল বিচক্ষণতার প্রমাণ। এপস্টিনের সঙ্গে যেকোনো যোগাযোগের জন্য আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক।’
নরওয়ের জনপ্রিয় ট্যাবলয়েড ভিজির সাংবাদিক শাজিয়া মাজিদ বলেন, এই ইমেইল ও তথ্য প্রকাশ ‘সবচেয়ে খারাপ সময়ে’ হয়েছে। তার মতে, ‘মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে। রাজতন্ত্র নিঃসন্দেহে একটি গুরুতর সংকটের মুখে।’ তবে তিনি আশা করছেন ৮৮ বছর বয়সী রাজা হ্যারাল্ড পঞ্চম, রানী সোনজা এবং ক্রাউন প্রিন্স হাকনের ‘পাশে’ থাকবে জনসাধারণ ।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার নরওয়ের সংসদে রাজতন্ত্র বাতিল করে প্রজাতন্ত্র গঠনের প্রস্তাব নিয়ে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও প্রস্তাবটি পাশ হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে আগের তুলনায় বেশি সমর্থন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘নরওয়ে অ্যাজ আ রিপাবলিক’ সংগঠনের নেতা ক্রেগ আন-স্টকডেল বলেন, ‘এপস্টিন ইমেইলগুলো রাজতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা ভেঙে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজপরিবারের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।’
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে বলেছেন, নথিতে যাদের নাম এসেছে, তাদের উচিত প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে স্বচ্ছভাবে কথা বলা। তিনি বলেন, ‘ক্রাউন প্রিন্সেস নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আমি সেটির সঙ্গে একমত।’
তিনি আরো বলেন, নথিতে কারো নাম থাকা মানেই অপরাধ প্রমাণিত, এমন নয়। এদিকে এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতে নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থরবিয়র্ন ইয়াগলান্ডের নামও উঠে এসেছে।
২০১৩-১৪ সালে তিনি এপস্টিনের দ্বীপে পারিবারিক সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন বলে ইমেইলে উল্লেখ রয়েছে। তবে তিনি জানান, সেই সফর করা হয়নি।


