ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বুধবার নিশ্চিত করেছেন, লিবিয়াসংশ্লিষ্ট একটি ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের মামলায় কারাদণ্ড ভোগের সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজির সুরক্ষার জন্য দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান সাধারণত তার পদমর্যাদা এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্যমান হুমকির কারণে একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা পান এবং বন্দি অবস্থায়ও সেই ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।’
সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্যারিসের লা সান্টে কারাগারে, যেখানে সার্কোজিকে মঙ্গলবার কারারুদ্ধ করা হয়, সেখানে তার পাশের একটি কক্ষে দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোতায়েন রয়েছেন।
২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা এই ডানপন্থী নেতা গত মাসে মুয়াম্মার গাদ্দাফির লিবিয়া থেকে তার নির্বাচিত হওয়ার প্রচারণার জন্য অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন।
সারকোজির আইনি দল তার আপিলের চূড়ান্ত বিচার না হওয়া পর্যন্ত মুক্তি চেয়ে আবেদন করেছে। তবে তারা জানিয়েছে, তাকে কমপক্ষে ‘তিন সপ্তাহ থেকে এক মাস’ কারাগারে থাকতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে কারা কর্মকর্তাদের একজন প্রতিনিধি বুধবার এই দেহরক্ষীদের উপস্থিতি তার পেশার জন্য অপমানজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
ইউএফএপি ইউএনএসএ জাস্টিস ইউনিয়নের প্রধান উইলফ্রিড ফংক আরটিএল রেডিওকে বলেন, ‘তারা মূলত আমাদের বলছেন যে আমরা আমাদের কাজ জানি না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আজকে আমাদের কাছে দুজন বেসামরিক লোক কারাগারের ভেতরে আছেন, যাদের সেখানে থাকার কথা নয় এবং যারা এখানকার ব্যবস্থা সম্পর্কে জানেন না। ২৫ বছরের কর্মজীবনে আমি এমন কিছু দেখিনি।’
কারাগার কর্মীরা এএফপিকে জানিয়েছেন, অন্য বন্দিদের সঙ্গে যোগাযোগ এড়াতে সারকোজিকে কারাগারের নির্জন কারাবাস উইংয়ের ৯৫ বর্গফুট আয়তনের একটি কক্ষে রাখা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্জন কারাবাসে বন্দিরা দিনে একবার, একা একটি ছোট উঠোনে হাঁটার অনুমতি পান। সারকোজি সপ্তাহে তিনবার সাক্ষাতের অনুমতিও পাবেন।
সারকোজি হলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান যাকে কারারুদ্ধ করা হলো। এ ছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে কারারুদ্ধ হওয়া নাৎসি সহযোগী রাষ্ট্রপ্রধান ফিলিপ পেঁতার পর তিনিই প্রথম ফরাসি নেতা, যিনি কারাগারে গেলেন।
২০১২ সালে পুনর্নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকে তিনি আইনি জটিলতায় জর্জরিত হয়েছেন এবং এর আগেও আরো দুটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।


