ব্রিটেনের কমিউনিটি বিষয়ক মন্ত্রী স্টিভ রিড বলেছেন, লন্ডনের এক পার্কে মসজিদ কর্তৃক আয়োজিত দাতব্য দৌড় প্রতিযোগিতা থেকে নারীদের বাদ দেওয়া ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’।

গত রোববার পূর্ব লন্ডন মসজিদ তাদের বার্ষিক পাঁচ কিলোমিটার তহবিল সংগ্রহ দৌড়ের আয়োজন করে, যা বিজ্ঞাপনে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ এবং ‘সব বয়স ও সক্ষমতার দৌড়বিদ ও সমর্থকদের জন্য’ বলা হয়েছিল।

কিন্তু শর্তে উল্লেখ করা হয়, দৌড়ে অংশ নিতে পারবেন শুধু ‘সব বয়সের পুরুষ, ছেলে শিশু এবং ১২ বছরের নিচের মেয়েরা’।

মেইল অন সানডের প্রতিবেদনে এই নারীবর্জিত নিয়ম প্রকাশ পাওয়ার পর সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য ইক্যুয়ালিটি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস কমিশনকে (ইএইচআরসি) তদন্তের আহ্বান জানানো হয়।

 

স্টিভ রিড এলবিসি রেডিওকে বলেন, ‘আমি অন্যদের মতোই হতবাক। এটি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য যে নারীদের কোনো মজার দৌড়ে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হবে, অথচ পুরুষদের অনুমতি দেওয়া হবে।’

তিনি জানান, ইএইচআরসি বিষয়টি আইন বা নিয়ম লঙ্ঘন কিনা তা নির্ধারণ করবে এবং প্রয়োজনে ‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’ নেওয়া হতে পারে।

 

তবে ইএইচআরসি এখনও নিশ্চিত করেনি যে তারা আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে কি না।

ব্রিটেনের ২০১০ সালের সমতা আইন অনুযায়ী, লিঙ্গ, ধর্ম, অক্ষমতা বা অন্য কোনো সংরক্ষিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বৈষম্য করা নিষিদ্ধ। তবে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে—যেমন যেখানে কোনো ক্রীড়া কার্যক্রম ‘লিঙ্গ দ্বারা প্রভাবিত’ হয়, সেখানে আইনসম্মতভাবে পুরুষ-নারী আলাদা প্রতিযোগিতা আয়োজন করা যায়।

পূর্ব লন্ডন মসজিদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমরা নারীদের ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করি।

আমাদের সম্প্রদায়ের চাহিদা শোনার ও সবার জন্য কার্যক্রম নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি অটুট।’

 

ওই পার্কের মালিক এবং দাতব্য কার্যক্রমে ব্যবহার অনুমতি দেওয়া টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল জানিয়েছে, ‘অংশগ্রহণে এই সীমাবদ্ধতার বিষয়ে জরুরি ব্যাখ্যা চাইতে’ তারা মসজিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।