আফ্রিকার দেশ এসওয়াতিনির (সোয়াজিল্যান্ড) রাজা মসওয়াতি তৃতীয়র পুরনো একটি ভিডিও আবারও আলোচনায় এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে এই আফ্রিকান সম্রাটের বিলাসবহুল জীবনযাত্রার এক ঝলক। জুলাই মাসে প্রথম প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেখা যায়, রাজা তার একাধিক স্ত্রী ও বিশাল অনুচর দল নিয়ে আবুধাবি বিমানবন্দরে রাজকীয় ভঙ্গিতে আগমন করছেন।
ভিডিওতে রাজাকে দেখা যায় একটি ব্যক্তিগত জেট থেকে নেমে আসতে, পরনে ঐতিহ্যবাহী রাজপোশাক। তার পেছনে সারিবদ্ধভাবে হেঁটে আসছে আভিজাত্যপূর্ণ পোশাকে সজ্জিত নারীরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজা মসওয়াতি তৃতীয়ের সঙ্গে তার ৩০ জন সন্তানও ছিলেন এই সফরে। এত বড় প্রতিনিধি দল বিমানবন্দরে অস্থায়ী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, ফলে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একাধিক টার্মিনাল সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হন।
ভিডিওটি প্রকাশের পর তীব্র সমালোচনা শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেকে রাজপরিবারের বিলাসী জীবনযাত্রা ও সাধারণ নাগরিকদের দারিদ্র্যের মধ্যকার বৈপরীত্য তুলে ধরেন।
একজন মন্তব্য করেন, ‘তিনি বিলাসী বিমানে ভ্রমণ করছেন, অথচ তার জনগণের বিদ্যুৎও নেই।’ আরেকজন লেখেন, ‘এই দেশ কি এত ধনী যে রাজা ব্যক্তিগত জেট নিয়ে ঘোরেন?’
আরো অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই মানুষটি ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে ঘোরেন, অথচ তার জনগণ অনাহারে মারা যাচ্ছে।
একজন রসিকতা করে প্রশ্ন করেন, ‘ওনার ঘরে কি সব স্ত্রীদের দেখাশোনার জন্য কোনো সমন্বয়কারী আছে?’
আফ্রিকার একমাত্র পরম রাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচিত রাজা মসওয়াতি তৃতীয় ১৯৮৬ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলারের বেশি।
অন্যদিকে দেশটি ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটে ভুগছে —স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধের তীব্র সংকট এবং অর্থের অভাবে অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২১ সালে বেকারত্বের হার ২৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৩.৩ শতাংশে পৌঁছেছে।
এদিকে রাজা নিজে নির্মাণ, কৃষি, টেলিকম, পর্যটন ও বনজ শিল্পসহ নানা খাতে শেয়ারধারী বলে জানিয়েছে সোয়াজিল্যান্ড নিউজ।
রাজা মসওয়াতি তার অতিরিক্ত আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন ও ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় প্রথার জন্য পরিচিত। প্রতিবছর অনুষ্ঠিত ‘রিড ড্যান্স’ উৎসবে তিনি এক নতুন স্ত্রী নির্বাচন করেন বলে জানা যায়—যা শতাব্দীপ্রাচীন এক রাজকীয় আচার এবং যেটির একইসঙ্গে প্রশংসা ও সমালোচনা রয়েছে।
তবে রাজপরিবার যেখানে বিপুল সম্পদে জীবনযাপন করছে, সেখানে দেশের সাধারণ মানুষের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসওয়াতিনির প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে।


