লন্ডনে ফিলিস্তিন দূতাবাসের বাইরে ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এটি ব্রিটেনের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে গাজায় ইসরায়েলের ধ্বংসযজ্ঞ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে দমন-পীড়ন চলছেই। গতকাল সোমবার যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হুসাম জোমলটের বক্তব্যের পর পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানটি হয়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতির পতাকা উত্তোলনের সময় আমাদের সঙ্গে যোগ দিন। কালো আমাদের শোকের জন্য, সাদা আমাদের আশার জন্য, সবুজ আমাদের ভূমির জন্য আর লাল আমাদের জনগণের ত্যাগের জন্য।’ জোমলট বলেন, ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে ঐতিহাসিক ভুল সংশোধন করা এবং স্বাধীনতা, মর্যাদা ও মানবাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যতের জন্য একসঙ্গে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া।’
তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘এই স্বীকৃতি এসেছে অকল্পনীয় কষ্টের সময়ে, যখন আমাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানো হচ্ছে এবং তা অস্বীকার করা হচ্ছে।
গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গাজায় আমাদের জনগণকে অনাহারে রাখা হচ্ছে, বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে, বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিম তীরে প্রতিদিন রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাস, জমি দখল ও দমন-পীড়নের মাধ্যমে নির্মমভাবে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে।’
জোমলট আরো বলেন, ‘স্বীকৃতিটি ঘটছে যখন আমাদের মানবতা প্রশ্নবিদ্ধ, আমাদের জীবন অপ্রয়োজনীয় মনে করা হচ্ছে, মৌলিক স্বাধীনতা অস্বীকার করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা শান্তি ও দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছি।’ ব্রিটিশ এমপি শোকাট অ্যাডাম বলেন, পতাকা উত্তোলন ঐতিহাসিক ও আবেগঘন মুহূর্ত।


